বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গণপরিবহণ হিসেবে বাসের (Bus) চাহিদা প্রচুর। নিত্যদিন বহু মানুষ বাসে চেপে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছন। তবে যাত্রীদের গলায় প্রায়ই অভিযোগের সুরও শোনা যায়। এবার এই নিয়েই রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে (Snehasis Chakraborty) কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সাধারণ মানুষের হয়রানি কোনও ভাবেই সহ্য করা হবে না। কার্যত পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি।
পরিবহণ মন্ত্রীকে কী নির্দেশ দিয়েছেন মমতা (Mamata Banerjee)?
বৃহস্পতিবার রাজ্যস্তরের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে রাজ্যের পরিবহণ দফতরের বেহাল দশা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবহণ মন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অফিস ছুটি হওয়ার পর কত মানুষ বাসের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন, সেটা নিয়ে পরিবহণ দফতর কোনও সমীক্ষা করেছে? কোন কোন অঞ্চলে বাসের ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি করা হতে পারে সেটা কি দেখা হয়েছে?’
মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, তিনি নিজে দেখেছেন প্রচুর মানুষ বাসের অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। স্নেহাশিস চক্রবর্তী কি নিজে কখনও ভিজিট করেছেন? প্রশ্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী। একের পর এক তীক্ষ্ণ সওয়ালে পরিবহণ মন্ত্রী খানিক থতমত খেয়ে যান বলে খবর। তিনি জানান, বাসের ফ্রিকোয়েন্সি খানিক বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটা শোনার পরেই কার্যত কড়া হুঁশিয়ারি দেন মমতা।
আরও পড়ুনঃ জোর বিপাকে পার্থ-মানিক? নিয়োগ দুর্নীতির চার্জশিটে CBI যা দাবি করল… তোলপাড় রাজ্য!
পরিবহণ মন্ত্রীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ যাতে ভালোভাবে অফিস যেতে পারেন ও নিজেদের বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটা তোমায় দেখতে হবে। কাজের দিন শহরের সব জায়গায় ভিজিট করতে হবে। শুধু একটি স্থান নয়, সব জায়গায় পরিদর্শন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি তালুক থেকে হাসপাতালের ভিজিটিং আওয়ারের পর কী পরিস্থিতি হয়, সেটা পরিদর্শন করতে হবে’।
শহরের পরিবহণ ব্যবস্থার পাশাপাশি যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং যানজট নিয়েও এদিন কথা বলেন মমতা। রাতের দিকে ট্র্যাফিক পুলিশের (Traffic Police) কেউ রাস্তায় থাকে না বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে বলেন, জাতীয় সড়ক সহ সকল রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে, রাখতে হবে যন্ত্র। পাশাপাশি দ্বিতীয় হুগলি সেতুর দুর্দশা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়া যানজটের কারণে উড়ালপুল বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে এদিন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মমতা (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টার পর মা উড়ালপুল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের সবচেয়ে সহজ কাজ হল বন্ধ করে দেওয়া। কোনও ভিআইপি গেলে বাড়ি ঘর, দোকানপা সব বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেগুলো চালু রেখে কি করা যায় না? মা উড়ালপুল, এজেসি বোস রোডে ৪০কিমি/ঘণ্টা গতিবেগ বেঁধে দিতে হবে’। সেই সঙ্গেই রাস্তায় বেরিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে কোনও রকম অসুবিধার সম্মুখীন না হন, সেটাও সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।