বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বছর ঘুরলেই বাংলায় (West Bengal) বিধানসভা নির্বাচন। দিল্লি দখলের পর আসন্ন নির্বাচনে বাংলা জয়ের জন্য মরিয়া গেরুয়া শিবির। কিছুদিন আগেই দিল্লিতে অনুষ্ঠিত, বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড ভোটে জয়লাভ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দীর্ঘ ২৭ বছর পর দিল্লিতে আবার ক্ষমতায় পদ্ম শিবির। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিকে একেবারে ‘গো-হারা’ হারিয়েছে নরেন্দ্র মোদির দল। রাজধানী দিল্লির সিংহাসন দখলের পর এবার বিজেপির টার্গেট পশ্চিমবঙ্গ। তাই আগামী বছরের নির্বাচনকে পাখির চোখ করেই এবার বাংলা দখলে একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছে বিজেপি।
বাংলায় (West Bengal) এখন নির্বাচন হলে কারা হত বিজয়ী
সদ্য সমাপ্ত দিল্লির নির্বাচনে আশাতীত সাফল্য লাভের পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছে গেরুয়া শিবিরের। তাই এবার একেবারে আঁটঘাঁট বেঁধেই আসন্ন নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) দখলে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে বিজেপি। জয়ী দল হিসেবে এই মুহূর্তে ফুল ফর্মে রয়েছে পদ্ম শিবির। তাই রাজনৈতিক মহলে একটা চাপা গুঞ্জন চলছে, এই সময় যদি বাংলায় নির্বাচন হয় তাহলে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে কাদের পাল্লা ভারী হবে? ইন্ডিয়া টুডে-সি ভোটারের সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে এই মুহূর্তে বাংলায় ভোট হলে বিজেপির থেকে ৬ শতাংশ এগিয়ে থাকবে তৃণমূল।
ইন্ডিয়া টুডে মুড অফ দ্যা ন্যাশন পোল প্রজেক্ট করে জানা গিয়েছে এখন বাংলায় (West Bengal) যদি ভোট হয় তাহলে তৃণমূল কমপক্ষে ৪৬ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে থাকবে। অপরদিকে বিজেপির ক্ষেত্রে ভোট পড়বে মোটামুটি ৪০ শতাংশ। যদিও বিগত কয়েক বছর ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে উঠেছে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। এছাড়াও রয়েছে সন্দেশখালি, আরজি কর এবং জয়নগরের মতো নক্কারজনক ঘটনা। যদিও এই সমস্ত ঘটনা তৃণমূলের ওপর সাময়িক প্রভাব ফেললেও তাতে, ভোটে জিততে খুব একটা সমস্যা হবে না তাদের
আরও পড়ুন: চরম অসহযোগীতার অভিযোগ! স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনীকে হাইকোর্টে তলব করলেন ক্ষুব্ধ বিচারপতি
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর একচেটিয়া ভাবে ক্ষমতায় থাকার ফলে বেশ কিছু বিষয়ে অ্যাডভান্টেজ রয়েছে তৃণমূলে। যার মধ্যে অন্যতম হলো সংখ্যালঘু ভোট। বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে। সরাসরি এই ভোটেরই সুবিধা পাচ্ছে তৃণমূল। অন্যদিকে রয়েছে কন্যাশ্রী, লক্ষী ভান্ডারের মতো একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুফল। এর ফলে রাজ্যের (West Bengal) মহিলা ভোটারদের একটা বড় অংশের সমর্থন রয়েছে তৃণমূলের পক্ষেই।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গেও দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে বিজেপির। এছাড়া মহারাষ্ট্র,ওড়িশা দিল্লির মতো একাধিক রাজ্যে বিরাট পালাবদলের ফলে বাংলা জয়ের বিষয়েও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে গেরুয়া শিবিরে। তাই আপাতত ভোট বাক্সে চল্লিশ শতাংশ মানুষের সমর্থন থাকলেও আগামী দিনে এই সংখ্যা আরো বাড়াতে উদ্যোগী বিজেপি। তবে সি-ভোটারের সমীক্ষা বলছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে রয়েছে বঙ্গ-বিজেপি। তার মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী সংগঠনের তুলনামূলক অভাব। একই সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিপক্ষ বঙ্গ বিজেপির প্রধান মুখ হয়ে ওঠার জন্য দাপুটে নেতৃত্বের অভাব রয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।