বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মার্চ মাসের প্রচণ্ড গরমে নাজেহাল রাজ্যবাসি (West Bengal)। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই একেবারে মাথার উপরে থাকছে সূর্যদেব। এখন থেকেই রাজ্যের কিছু কিছু জেলায় তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছে ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি। এই প্রচন্ড গরমে এখন থেকেই নাকাল হচ্ছেন বড়রা। তাই মার্চ-এপ্রিল মাসে যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে আগামী দিনে অর্থাৎ মা-জুন মাসে না জানি কি অবস্থাটাই না হবে! সেকথা ভেবেই যেন শিউরে উঠছেন রাজ্যবাসী। বিশেষ করে আগামী দিনগুলিতে রাজ্যের পড়ুয়াদের কথা চিন্তা করে কুল-কিনারা পাচ্ছেন না অভিভাবকরা। এবছর সময়ের অনেক আগেই গরমের তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠছে গরমের ছুটিও কি আগে পড়ে যাবে? এই বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নিল বিকাশ ভবন?
রাজ্যে (West Bengal) গরমের ছুটি নিয়ে কি সিদ্ধান্ত নিল বিকাশ ভবন?
বিকাশভবন সূত্রে খবর, এখনই এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না তাঁরা। কারণ এক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক রিপোর্ট হাতে পেতে চাইছেন তাঁরা। এই কারণেই আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে চাইছে বিকাশ ভবন। রাজ্যে (West Bengal) সাধারণত গরমের ছুটি পড়ে মে মাসের ১২ থেকে ২৩ তারিখ নাগাদ। ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ আগামী কয়েক মাসে সেই তাপপ্রবাহের তীব্রতা কোথায় পৌঁছবে তা ভেবেই রীতিমতো আতঙ্কিত রাজ্যের শিক্ষকমহল।
প্রসঙ্গত বিগত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) স্কুলগুলিতে দীর্ঘ দেড় মাস ধরে গরমের ছুটি দেওয়ার প্রবণতা। এরফলে অধিকাংশ পড়ুয়াই আগে কি পড়েছিল তা ভুলে যাচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতিতে অধিকাংশ শিক্ষকরাই চাইছেন গরমের ছুটি বাড়ানোর পরিবর্তে স্কুলের সময়ে বদল আনা হোক। তাই পঠনপাঠন যাতে ব্যাহত না হয় তার জন্য বহু শিক্ষকই ছুটির বদলে সকালে স্কুল করার ব্যবস্থা করতে বলছেন।
আগামীদিনে প্রচন্ড গরমের হাত থেকে বাঁচতে রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলগুলির ক্লাস নেওয়ার সময়সীমার কোনো বদল আনা হবে কি না, সেবিষয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট আসতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে এব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, ঠিকই তবে খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে খবর।
আরও পড়ুন: ধোপে টিকল না রাজ্যের আপত্তি! এ বার BJP-কে বড় অনুমতি দিয়ে দিল হাইকোর্ট
বিগত কয়েক বছরের মতো এবছরও গরমের ছুটির তালিকা লম্বা হলেও মুশকিল। সেক্ষত্রে বিশাল সিলেবাস শেষ করতেও সমস্যা হবে স্কুলগুলির। বিশেষ করে বেশিদিন ছুটি থাকলে দ্বিতীয় সামিটিভ পরীক্ষার সিলেবাস শেষ করার ব্যাপারে চিন্তা থেকে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত নতুন পাঠ্যক্রমের নিয়ম অনুযায়ী পড়ুয়াদের বর্তমানে বছরে তিনবার অর্থাৎ এপ্রিল, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ক্লাস ভিত্তিক মূল্যায়ন করা হয়। স্কুলগুলিতে প্রথম সামিটিভের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই শুরু হবে উচ্চ-মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টারের ক্লাস। জানা যাচ্ছে, এমনই বেশ কিছু কারণবশত গরমের ছুটি নিয়ে এত তাড়াতাড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর।