বাংলাহান্ট ডেস্ক : শুক্রবারে মায়ানমারে (Myanmar Earthquake) জোড়া ভূমিকম্পের পর থেকে কেটে গিয়েছে পাঁচ দিন। প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেশটিতে এখন শুধুই স্বজন হারাদের হাহাকার। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে ক্রমশ। আর কোনো জীবিত মানুষজন খোঁজ পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে উদ্ধারকারী দল এখন মৃতদেহের খোঁজে নেমেছে। একের পর এক ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে লাশ খু্ঁজে বের করতে গিয়েই গলদঘর্ম হচ্ছে উদ্ধারকারী দল। তার মধ্যেই একটি হোটেলের ধ্বংসাবশেষ সরাতে গিয়ে যা পেল রেসকিউ টিম, তা কোনো ‘মিরাক্যল’ বললেও হয়তো কম বলা হবে।
মায়ানমারে (Myanmar Earthquake) ধ্বংসস্তূপের তলায় কীসের সন্ধান
বুধবার মায়ানমারের (Myanmar Earthquake) রাজধানী ন্যপিদ-এ তল্লাশি চালাচ্ছিল একটি উদ্ধারকারী দল। তবে ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকে পড়া কোনো মানুষের জীবিত থাকার সম্ভাবনা তারা ছেড়েই দিয়েছিলেন। কারণ ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘন্টা পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু তবুও একটি ভেঙে পড়ার হোটেলের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তারা। আর তাতেই ঘটে যায় বড়সড় মিরাক্যল। এন্ডোস্কোপিক ক্যামেরা ব্যবহার করতেই রেসকিউ টিম সন্ধান পায় ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়া এক তরুণের লোকেশন।
পাঁচদিন পর উদ্ধার করে রেসকিউ টিম: দীর্ঘ ১০৮ ঘন্টা ধ্বংসাবশেষের (Myanmar Earthquake) নিচে চাপা পড়ে থেকেও জীবিত ছিলেন লাইং লিন তুন নামে বছর ২৬ এর ওই তরুণ। জানা গিয়েছে, তরুণ ওই হোটেলেরই কর্মী ছিলেন। জানা গিয়েছে, তুরস্কের ওই রেসকিউ টিমের সঙ্গে স্থানীয়রাও হাত লাগিয়ে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছিলেন প্রায় ৯ ঘন্টা ধরে। ১০৮ ঘন্টা ধরে চাপা থাকার পর তরুণের পরনের জামা প্রায় শতছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি শারীরিক ভাবে প্রায় সুস্থই ছিলেন বলে খবর। এই ঘটনাকে সকলেই মিরাক্যল বলেই মনে করছেন।
আরো পড়ুন : কাটছেই না শনির দশা, বক্স অফিসে ফ্লপ ‘সিকন্দর’, এর মাঝেই উঠল সলমনের ছবি বয়কটের ডাক
উদ্ধার হয়েছেন আরো চারজন: শুধু ওই তরুণ নন, গত মঙ্গলবার মান্দালয়ের স্কাই ভিলার ধ্বংসাবশেষের মধ্যে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিলেন চিনের একটি রেসকিউ টিম। ওই ধ্বংসস্তূপের (Myanmar Earthquake) মধ্যে থেকে ৫ বছরের এক শিশু এবং একজন গর্ভবতী মহিলা সহ চারজনকে উদ্ধার করে তারা। দীর্ঘ ৬০ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে ওই ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েছিলেন তারা।
আরো পড়ুন : ‘শুল্ক যুদ্ধ’এর ঘোষণা, আমেরিকার বিরুদ্ধে এককাট্টা চিন-কানাডা, কী প্রভাব পড়বে ভারতে?
শুক্রবারের তীব্র ভূমিকম্পে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মায়ানমার। প্রথম দিন রিপোর্ট এসেছিল, ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে ভূমিকম্পে। তারপর থেকে পাঁচ দিন পরে সরকারি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, প্রায় ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে ওই বিপর্যয়ে। প্রায় সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, অনেক জায়গায় এখনো উদ্ধারকাজ শুরুই হয়নি।