বাংলা হান্ট ডেস্ক: গত শনিবার সমগ্ৰ বাংলাদেশবাসীর কাছে ছিল এক ঐতিহাসিক দিন। কারণ, ওইদিনই “পদ্মা মাল্টিপারপাস ব্রিজ”-এর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমতাবস্থায়, সেদেশের প্রশাসনের তরফে দাবি করা হচ্ছে যে, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর এটাই নিঃসন্দেহে দেশের সব থেকে চমকপ্রদ ঘটনা। শুধু তাই নয়, এই সেতুর উদ্বোধনের ফলে একধাক্কায় কলকাতা থেকে ঢাকার দূরত্ব কমে গেল প্রায় দেড়শো কিলোমিটার! পাশাপাশি, কমে যাবে সময়ের ব্যবধানও।
মূলত, এই সেতুটির স্থায়িত্ব হল ১০০ বছর। অর্থাৎ, এই দীর্ঘ সময় ধরে এটি পরিষেবা দিতে থাকবে। যদিও, মহাসমারোহে এই ব্রিজের উদ্বোধন হলেও এখানে রয়েছে মস্ত একটা খুঁত। যা ব্রিজটির স্থায়িত্বকাল পর্যন্ত একইভাবে থেকে যাবে। মূলত, এই সেতুটিতে রেলপথটি ডাবল লাইনে উন্নীত করার কোনোরকম সুযোগ নেই। যার ফলে সমস্যায় পড়বে ট্রেন চলাচল। কারণ, একটি ট্রেন যখন পদ্মা সেতু পাড়ি দেবে তখন বিপরীত দিকের ট্রেনকে অপেক্ষায় থাকতে হবে।
জানা গিয়েছে, ২০০৩ সাল থেকে এই ব্রিজ শুরু করার সমীক্ষা চলতে থাকে যা শেষ হয় ২০০৫ সালের মার্চ মাসে। তারপরেই রেললাইন যুক্ত রাখার সুবিধাসহ ২৫ মিটার প্রশস্ত সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। যদিও, ২০০৭ সালে এই প্রকল্প অনুমোদনের সময়ে দেখা যায় রেললাইন যুক্ত করার পরিকল্পনাটি বাদ গেছে। এমতাবস্থায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পিত পদ্মা সেতুতে রেললাইন সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন।
এদিকে, ১৯৯৮ সালে যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুরও একটি প্রান্তে রয়েছে সিঙ্গেল লাইনের রেলপথ। যে কারণে সংশ্লিষ্ট সেতুটিতে দিনে ২৪ টির বেশি ট্রেন চলতে পারে না। শুধু তাই নয়, বর্তমানে ওই সেতুটিতে ফাটলের কারণে ঘন্টায় মাত্র ২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করে। এমতাবস্থায়, পদ্মায় দ্বিতল সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয় ২০০৯ সালে।
নবনির্মিত পদ্মা সেতুতে ডাবল স্টেক কন্টেইনারবাহী ট্রেন চলতে পারবে। পাশাপাশি, যাত্রীবাহী ট্রেন চলতে পারবে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে। এছাড়াও, পণ্যবাহী ট্রেন চলতে পারবে ১২৫ কিলোমিটার গতিতে। যদিও, সমস্ত সুবিধা থাকা সত্বেও সিঙ্গেল লাইনের রেলপথ তৈরির কারণে যমুনা ব্রিজের মত সমস্যা পদ্মাতেও তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পদ্মা ব্রিজের লোয়ার ডেকে রেললাইন ছাড়াও ৭৬২ মিলিমিটার ব্যাসের গ্যাস পাইপ রয়েছে। এছাড়াও, ১.৬৭৬ মিটার প্রশস্ত (প্রায় সাড়ে ৫ ফুট) ডুয়েলগেজ রেললাইনের দুই পাশে সেতুর সার্ভিস ওয়াকওয়ে রয়েছে। যার ফলে আর এই রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার কোনো সুযোগ নেই। এই প্রসঙ্গে এই সেতুর প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা জানান, সেতুটির নকশায় যে লোড ডিজাইন করা হয়েছে, তাতে ডাবল লাইনের কোনো বিকল্প রাখা হয়নি। মূলত, খরচ কমাতেই এই সিঙ্গেল রেললাইনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
যদিও, এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কেউ সামনে আনেননি। এমতাবস্থায়, প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডাবল লাইন নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় জোর পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ত। উল্লেখ্য যে, ১০৭ বছর আগে নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজটি ডাবল লাইনের। যা এখনও দারুণভাবে পরিষেবা দিয়ে আসছে।