কি শিখবে পড়ুয়ারা? মধ্যশিক্ষা পর্ষদ স্বীকৃত বইয়ে ত্রিভুজের ‘দু’টি কোণ লেখা দেখে বিরক্ত শিক্ষকমহল

   

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ত্রিভুজের দু’ইটি কোণ। অষ্টম শ্রেণীর (Class 8) অংক বইতে (Math Book) এমন তথ্য দেখে চক্ষু চরক গাছ রাজ্যের শিক্ষক-পড়ুয়া থেকে অভিভাবক সকলেরই। এমনিতেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অনেক আগেই মুখ পুড়েছিল রাজ্যের , যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে উঠেছে নিন্দার ঝড়।

এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board of Secondary Education) স্বীকৃত বইতে ভুল তথ্য দিয়ে শিক্ষকমহল এবং ছাত্রছাত্রীদের একাংশের প্রশ্নের মুখে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। প্রত্যেক বছরের মতো চলতি বছরেও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অনুমোদিত বিষয়ভিত্তিক সমস্ত বই বিভিন্ন ভাষায় ছাপানো হয়েছে।

কিন্তু সেই ছাপানো বই থেকেই এবার বেরিয়ে এল এক মোস্ট বড়সড় রকমের ভুল। আসলে ইংরেজি ভাষায় অষ্টম শ্রেণীর যে ‘গণিতপ্রভা’ (Ganitprabha) বইটি ছাপা হয়েছে সেখানে দেখা গেল এক বিরাট তথ্যগত ভুল। সম্প্রতি এই বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে অষ্টম শ্রেণীর এক পড়ুয়ার।

তিনি জানান তাদের গণিতের ইংরেজি বইতে ত্রিভুজ এবং পঞ্চভুজ উভয় ক্ষেত্রেই নাকি ভুল তথ্য দেওয়া রয়েছে। সাধারণত ত্রিভুজের তিনটি কোণ থাকে। কিন্তু ওই বইতে দুটি কোণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া পঞ্চভুজকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘পেন্টাগণ’। কিন্তু ওই বইটিতে তার বদলে লেখা রয়েছে পেটাগন।

আরও পড়ুন: নিয়োগ দুর্নীতিতে বিরাট অ্যাকশন! CBI-র চাপে ঘুম উড়ল জেলবন্দি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

এছাড়াও নাকি আরো বেশ কিছু বইতে এমনই নানা ধরনের তথ্যগত ভুল রয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন রাজ্যের পড়ুয়া থেকে শিক্ষক মহলের একাংশ। এপ্রসঙ্গে পার্ক ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক সুপ্রিয় পাঁজা জানিয়েছেন , ‘এই ধরনের ভুল সাধারণত শিক্ষকরাই ক্লাসে ঠিক করে দিয়ে থাকেন। তবে, পর্ষদের যে সিলেবাস কমিটি রয়েছে তাঁদের এই বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।’

w

এখানে বলে রাখি প্রতিটি বোর্ডেরই নিজস্ব এক্সপার্ট কমিটি বা সিলেবাস কমিটির তত্ত্বাবধানেই বই ছাপানো হয়। তাই প্রশ্ন উঠছে তার পরেও কীভাবে এই ধরনের  ভুল ত্রুটি হচ্ছে? এপ্রসঙ্গে নারকেলডাঙা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বপন মণ্ডল বলেছেন , ‘শুধু অষ্টম শ্রেণির গণিত বই নয়, এই সরকারের আমলে যত পাঠ্যপুস্তক তৈরি হয়েছে প্রায় সব বইয়ে কিছু না কিছু ভুল রয়েছে। কিছু বইয়ে আবার অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়ও রয়েছে।’

যদিও এক্ষেত্রে ভিন্ন মত পোষণ  করেছেন  নদিয়া জেলার ভীমপুর স্বামীজি বিদ্যাপীঠের সহকারী প্রধান শিক্ষক নির্মল ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, ‘ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করা বইয়ে এই ভুল থাকলেও বাংলা ভাষায় লেখা বইগুলিতে ভুল নেই। যদিও এটা মুদ্রণজনিত ভুল। তবে, এ রকম ভুল না থাকাটাই বাঞ্ছনীয়।’

Anita Dutta
Anita Dutta

অনিতা দত্ত, বাংলা হান্টের কনটেন্ট রাইটার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। বিগত ৪ বছরের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশার সাথে যুক্ত।

সম্পর্কিত খবর