বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হিংসা বেড়েই চলেছে। সোমবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নরসিংদী ও যশোরে দু’জন হিন্দু যুবকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এই ধারাবাহিক হামলায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশে (Bangladesh) অব্যাহত হিন্দু নিধন:
নরসিংদী জেলার মুদি দোকানদার মনি চক্রবর্তীকে সোমবার রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখনও হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি। স্থানীয়ভাবে এই হত্যার পেছনে সাম্প্রদায়িক প্ররোচনা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই যশোরে হত্যার শিকার হন স্থানীয় আইস ফ্যাক্টরির মালিক ও সাংবাদিক রানা প্রতাপ। তাকে ফ্যাক্টরি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটি গলিতে গুলি ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাতটি গুলির খোল উদ্ধার করেছে। তদন্তে জানা গেছে, রানা প্রতাপের বিরুদ্ধে কিছু মামলা রয়েছে, যা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত শনিবার ঝিনাইদহে এক হিন্দু বিধবাকে ধর্ষণ ও গণঅপমানের শিকার হতে হয়, যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে, গত ডিসেম্বরে মানিকগঞ্জে ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা, ময়মনসিংহে হিন্দু সেনা সহায়ক বাহিনীর কর্মী বজেন্দ্র বিশ্বাসকে গুলি করে হত্যা এবং রাজবাড়িতে অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনাগুলি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ধারাবাহিকতা প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন: জানুয়ারিতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে বড় আপডেট, নতুনদের জন্যও এল ‘ভালো খবর’
এসব ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ বাড়ানো এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।












