বাাংলাহান্ট ডেস্ক:- আমেরিকার চাপানো ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝার মাঝেই ভারতের (India) অর্থনীতির জন্য এল আশার আলো। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান এবং পরিকল্পনা দপ্তরের প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ। যা শুধু গত অর্থবর্ষের তুলনায় নয়, বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাসের থেকেও অনেক বেশি।
উর্ধ্বমুখী ভারতের জিডিপি (India)
গত অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৫ শতাংশ। বিভিন্ন সমীক্ষা এবং সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছিল যে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৩ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে থাকবে। এমনকি রিজার্ভ ব্যাঙ্কও এই অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের জন্য ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে রিপোর্ট প্রকাশের পর দেখা গেল, পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে উল্কার মতো ঊর্ধ্বমুখী ভারতের অর্থনীতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর দ্রুততম গতিতে এগিয়ে চলা অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হল। আমেরিকার শুল্কনীতি যে ভারতের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, সেই আশঙ্কা আগেই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জিডিপি বৃদ্ধির এই উত্থান সেই চাপ সামলাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলেই অর্থনৈতিক মহলের ধারণা।
আরও পড়ুন:- পাত্তাই পেলনা ট্রাম্পের হুমকি! রাশিয়া থেকে আরও তেল কেনার প্রস্তুতি ভারতের, জানাল রিপোর্ট
বিশ্লেষণ বলছে, পরিষেবা ক্ষেত্রের দ্রুত বৃদ্ধি এই সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ। এ ক্ষেত্রেই এই অর্থবর্ষে বৃদ্ধি হয়েছে ৯.৩ শতাংশ, যা গত দুই বছরের মধ্যে সব থেকে বেশি। কৃষিক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে ৩.৭ শতাংশ এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে ৭.৭ শতাংশ। পরিষেবা খাতের পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষেত্রের এই উন্নতিও সামগ্রিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।
তবে ইতিবাচক ছবির মাঝেই আর্থিক ঘাটতির প্রশ্নে উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। শুক্রবার কন্ট্রোলার জেনারেল অফ অ্যাকাউন্টস যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গিয়েছে জুলাইয়ের শেষে ভারতের আর্থিক ঘাটতি বেড়ে সারা বছরের লক্ষ্যমাত্রার ২৯.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। যেখানে প্রথম ত্রৈমাসিকের শেষে এই ঘাটতি ছিল বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ১৭.৯ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সরকারের আর্থিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪,৬৮,৪১৬ কোটি টাকা। সরকারের হিসেব অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে আর্থিক ঘাটতি হবে জিডিপি-র ৪.৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৫.৬৯ লক্ষ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন:- নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তে বাড়ছিল ক্ষতি? ভারতের সীমান্ত লাগোয়া ৩ টি স্থলবন্দর বন্ধ করল ইউনূস সরকার
অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিষেবা ও উৎপাদন খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স ভারতের উন্নতির গতি বাড়ালেও আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আমেরিকার শুল্কচাপের প্রভাব কিছুটা হলেও কমাতে সক্ষম হবে এই বৃদ্ধির হার। তবে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাজস্ব নীতি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিতে হবে। ফলে সামগ্রিকভাবে বলাই যায়, শুল্কের চাপের মাঝেও জিডিপি বৃদ্ধির এই সাফল্য ভারতের অর্থনীতিকে নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে।