বাংলায় হান্ট ডেস্ক: দিল্লি পুলিশের নতুন এফআইআরের জেরে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় আরও বিপাকে কংগ্রেসের রাহুল-সোনিয়া (Rahul Gandhi-Sonia Gandhi)। শুধুমাত্র আর্থিক প্রতারণা নয়, এবার রাহুল গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনল পুলিশ। জানা গিয়েছে, বিপুল আর্থিক কারচুপির অভিযোগে একটি নতুন এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ, যেখানে রাহুল, সোনিয়া, স্যাম পিত্রোদা-সহ মোট ছ’জনের নাম রয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের আওতায় এসেছে অ্যাসোসিয়েট জার্নাল লিমিটেড (AJL), ইয়ং ইন্ডিয়ান এবং ডটেক্স মার্চেন্ডাইস প্রাইভেট লিমিটেড—এই তিন সংস্থাও। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ডটেক্স একটি শেল কোম্পানি, যার মাধ্যমে ১ কোটি টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে ইয়ং ইন্ডিয়ানের অ্যাকাউন্টে।
ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় আরও বিপাকে রাহুল-সোনিয়া (Rahul Gandhi-Sonia Gandhi):
এফআইআর অনুযায়ী অভিযোগ, এই ১ কোটি টাকা পাওয়া মাত্রই ইয়ং ইন্ডিয়ান মাত্র ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অ্যাসোসিয়েট জার্নাল লিমিটেডের প্রায় সমস্ত সম্পত্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ওই সম্পত্তির দাম ছিল বহু গুণ বেশি বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। এই জালিয়াতি এবং ষড়যন্ত্র প্রমাণিত হলে গুরুতর আইনগত সমস্যায় পড়তে পারেন রাহুল এবং সোনিয়া গান্ধী ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় আরও বিপাকে রাহুল-সোনিয়া (Rahul Gandhi-Sonia Gandhi)। এমনকি এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের সাংসদ পদ বাতিলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনার অভিঘাত নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাঁচির ODI ম্যাচ হতে চলেছে ঐতিহাসিক! ভারতীয় ক্রিকেটে যা ঘটেনি সেটাই করে দেখাবেন রোহিত-বিরাট
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় তদন্ত শুরু করে ইডি। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে এই তদন্ত শুরু হয়। স্বামীর অভিযোগ ছিল, বেআইনিভাবে অ্যাসোসিয়েট জার্নাল লিমিটেডের প্রায় ২০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করেছে ইয়ং ইন্ডিয়ান। সেই সময়ে ইয়ং ইন্ডিয়ানের শেয়ারহোল্ডার ছিলেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় আরও বিপাকে রাহুল-সোনিয়া (Rahul Gandhi-Sonia Gandhi)-সহ কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা। অ্যাসোসিয়েট জার্নাল লিমিটেড থেকেই প্রকাশিত হত ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্র, যা স্বাধীনতার পর থেকে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
তদন্তের অংশ হিসেবে ইডি ইতিপূর্বে একাধিকবার রাহুল ও সোনিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ন্যাশনাল হেরাল্ডের দপ্তরেও তল্লাশি চালিয়েছে সংস্থা। যদিও এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের কোনও শীর্ষ নেতা এই মামলায় গ্রেপ্তার হননি। এদিকে নতুন এফআইআর দায়ের হওয়ায় কংগ্রেস শিবিরে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি বাড়ছে। মামলার অগ্রগতির ফলে রাজনৈতিকভাবে বিরোধীদের আরও চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:‘এই তো সবে শুরু…’, ভুয়ো ভোটার ধরতে বড় পদক্ষেপ, কমিশনের উদ্যোগকে সাধুবাদ শুভেন্দুর
তবে কংগ্রেসের দাবি, এই তদন্ত সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। বারবারই তারা অভিযোগ করে এসেছে যে ন্যাশনাল হেরাল্ডকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকার বিরোধীদের স্তব্ধ করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। নতুন এফআইআরকেও সেই চেষ্টার সর্বশেষ উদাহরণ বলেই দাবি করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। যদিও দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে মামলাটি আরও জটিল পথে এগোতে চলেছে এবং আগামী দিনে এই মামলার রাজনৈতিক ও আইনগত পরিণতি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।












