বাংলাহান্ট ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের পর সীমান্ত অঞ্চলে পাকিস্তানের (Pakistan) নড়াচড়া আরও সাবধানী হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পাকিস্তান ছয় ডজনেরও বেশি টেরর লঞ্চপ্যাডকে সীমান্তের একদম সামনে থেকে সরে দেশের গভীর এলাকায় স্থানান্তরিত করেছে। শীতের মরসুমে ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে নতুন করে অনুপ্রবেশ ঘটানোর ব্লুপ্রিন্টও তৈরি করেছে ইসলামাবাদ। বর্তমানে জম্মু অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর মোট ৭২টি লঞ্চপ্যাড সক্রিয় রয়েছে, যেগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীও সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে।
অপারেশন সিঁদুরের পর আতঙ্কে পাকিস্তান (Pakistan)!
বিএসএফের তরফে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান (Pakistan) সরকার অপারেশন সিঁদুরের পর তাদের রেঞ্জার ও সেনাকে সব লঞ্চপ্যাডকে গভীর ও জনবহুল এলাকায় সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ভারতীয় বাহিনীর প্রত্যাঘাত এড়ানো যায়। ঘন কুয়াশার আড়ালে অনুপ্রবেশের চেষ্টার আশঙ্কায় বিএসএফ সীমান্তে টহলদারি জোরদার করেছে। বিএসএফের জওয়ান এবং মহিলা কর্মীরাও সীমান্তে দিন-রাত নজরদারি চালাচ্ছেন। শনিবার এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বিএসএফের শীর্ষ কর্তারা জানান, যদি সরকার ফের সীমান্তপারের অভিযানের অনুমতি দেয়, তবে বাহিনী শত্রুপক্ষকে আরও বড় ক্ষতি করতে প্রস্তুত।
আরও পড়ুন: ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় আরও বিপাকে রাহুল-সোনিয়া! দায়ের হল অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
বিএসএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তান (Pakistan) সীমান্তবর্তী একাধিক জঙ্গি লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করা হয়েছিল। সেই কারণেই পাকিস্তান এখন ১২টি লঞ্চপ্যাডকে সিয়ালকোট ও জাফরওয়ালের গভীর এলাকায় সরিয়ে নিয়েছে, যা সরাসরি সীমান্তে অবস্থিত নয়। বিএসএফের ডিআইজি বিক্রম কুনওয়ার জানিয়েছেন, সীমান্তের আরও ভিতরের এলাকায় প্রায় ৬০টি লঞ্চপ্যাড সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। বিএসএফের আইজি শশাঙ্ক আনন্দ ও ডিআইজি কুলবন্ত রায় শর্মাও এদিন সীমান্ত পরিস্থিতি ও ২০২৫ সালে বাহিনীর সাফল্য নিয়ে বিশদ তথ্য তুলে ধরেন। অপারেশন সিঁদুর ছিল এই সাফল্যেরই একটি বড় অধ্যায়—যা ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে ২৬ জনের হত্যাকাণ্ডের জবাবে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে পরিচালিত হয়েছিল।
বিএসএফ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লঞ্চপ্যাডে জঙ্গিদের উপস্থিতির সংখ্যা পরিবর্তনশীল। জঙ্গিরা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকে না; সাধারণত ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার পরিকল্পনা হলেই এক-দুই বা তিনজনের ছোট দলে তাদের সেখানে রাখা হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কোনও জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির সক্রিয় নেই বলে বিএসএফের দাবি। অতীতে যেখানে পাকিস্তানের (Pakistan) জইশ-এ-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তইবা আলাদা এলাকায় কার্যকর ছিল, এখন তারা সম্মিলিত প্রশিক্ষণ ও মিশনে যুক্ত হচ্ছে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যেই গ্রুপ-সি ও ডি শিক্ষাকর্মী নিয়োগ নিয়ে বিরাট আপডেট দিল SSC
বিএসএফের আইজি শশাঙ্ক আনন্দ বলেছেন, অতীতের যুদ্ধ—১৯৬৫, ১৯৭১, ১৯৯৯-এর কার্গিল সংঘাত—হোক বা সাম্প্রতিক অপারেশন সিঁদুর, বিএসএফ সকল ধরনের প্রচলিত ও হাইব্রিড যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রাখে এবং প্রয়োজনে আরও বড় হামলা প্রতিরোধ ও জবাব দিতে সক্ষম। তিনি জানান, পাকিস্তানি (Pakistan) রেঞ্জারদের পরিকাঠামো এখনও অপারেশন সিঁদুরের ক্ষতি থেকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, এবং তাদের সব গতিবিধি বিএসএফের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্তে জঙ্গিদের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না, তবু পরিবর্তিত পরিস্থিতি অনুযায়ী ভারতীয় বাহিনী যে কোনও মুহূর্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত—এমনটাই জানিয়েছেন বিএসএফের কর্মকর্তারা।












