বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের (India-Bangladesh) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়ে ভারত শুধু শোকই জানায়নি, একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক বার্তাও দিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী ডক্টর এস জয়শঙ্কর বুধবার ঢাকায় গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তলিখিত শোকবার্তা তাঁর হাতে তুলে দেন। এই সৌজন্য সফরকে দুই দেশের সম্পর্কে বরফ গলানোর সম্ভাবনাময় সঙ্কেত হিসেবেই দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বরফ গলছে ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সম্পর্কে?
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোকবার্তা দেন। একজন প্রতিবেশী দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধানের শেষকৃত্যে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণ কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা সম্পর্কের গভীরতা ও ভবিষ্যতের প্রতি আগ্রহেরই ইঙ্গিতবাহী।
আরও পড়ুন:১৮ বছর পর ইতিহাস! কলকাতায় ১১ ডিগ্ৰির ঘরে পারদ, জানুয়ারির শুরুতেই রেকর্ড ঠান্ডা
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংখ্যালঘু নির্যাতন, সীমান্ত সমস্যা ও আঞ্চলিক রাজনীতির জটিলতা দুই দেশের মধ্যে বিভক্তি আরও বাড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে এই উচ্চপর্যায়ের মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নতুন গতিবিধির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ থাকায় বিএনপি একটি শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। খালেদা জিয়ার পর তাঁর পুত্র তারেক রহমান দলের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিএনপির সফলতার সম্ভাবনাও আলোচিত হচ্ছে। তাই জয়শঙ্করের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎকে ভবিষ্যতের সম্পর্কের জন্য একটি সম্ভাবনাময় সংলাপের সূচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:জামিন পেলেও শরীর ভালো নেই! হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন পার্থ, কী হয়েছিল প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর?
বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জয়শঙ্করের চার ঘণ্টার এই সফরকে পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তববাদের ভিত্তিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মোদীর চিঠিতে খালেদা জিয়ার সাথে তাঁর পূর্ববর্তী সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, শোকের মুহূর্তে ভারতের এই কূটনৈতিক সদিচ্ছা সম্পর্কের জমাট বরফ গলিয়ে নতুন উষ্ণতার সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মত প্রকাশ করেছেন।












