বাংলা হান্ট ডেস্কঃ এসএসসি (SSC) নিয়ে এখনও জট পুরোপুরি কাটেনি। সম্প্রতি যাঁরা ২০১৬ সালের প্যানেলের চাকরি হারিয়ে পুরনো চাকরিতে ফিরতে চাইছিলেন, তাঁদের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি করেছিল রাজ্য। তবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসলো স্কুল শিক্ষা দপ্তর (School Education Department)। বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) দায়ের হওয়া মামলার কারণে সেই মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারে জটিলতা | School Education Department
দু’দিন আগেই পুরোনো চাকরিতে ফেরার মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কথা বলেছিল রাজ্য। তবে হঠাৎই তা প্রত্যাহার করা হল। স্কুলশিক্ষা কমিশনার প্রাথমিক ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সচিবকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, পুরনো চাকরিতে ফেরার জন্য যে মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আপাতত কার্যকর হচ্ছে না।
গত বছর এপ্রিল মাসে ২০১৬ সালের এসএসসির গোটা প্যানেল বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে ‘যোগ্য’ চাকরিহারা যাঁরা অন্য কোনও সরকারি চাকরি ছেড়ে এই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের জন্য পুরনো চাকরিতে ফিরে যাওয়ার পথ খোলা থাকবে।
রাজ্য সরকারকেই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। সেই প্রক্রিয়া শুরু হলেও কিন্তু ডেডলাইন মেনে সমস্ত ক্ষেত্রে পুরনো চাকরিতে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি এখনও। তাই গত সোমবার মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে শিক্ষা দফতর। এবার সেই বিজ্ঞপ্তি তুলে নেওয়া হল।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজ্যে যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের কাজের মেয়াদ ৩১ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই সময় পর্যন্ত তারা বেতন পাবেন বলেও জানানো হয়। এদিকে এরই মধ্যে পুরনো চাকরিতে ফিরতে চাওয়া শিক্ষকদের একাংশ রাজ্য সরকারের কাছে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছিলেন বলে খবর। এরপর বিজ্ঞপ্তি জারি করে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর সময়সীমা বাড়িয়ে তা ৩১ অগস্ট ২০২৬ করা হয়।

আরও পড়ুন: SIR-শুনানিতে দেওয়া যাবে না ২০১০ সালের আগে দেওয়া OBC সার্টিফিকেট, সিদ্ধান্ত কমিশনের
সবকিছু ঠিক থাকলেও এরই মধ্যে পুরনো কাজে ফিরতে চাওয়া প্রার্থীদের একাংশ এই মেয়াদ বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা করেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটল রাজ্য। এদিকে ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকাকে পুরনো কাজের ফেরানোর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে এখনও যাঁরা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে পুরনো চাকরিতে ফেরেননি তাঁদের জন্য সমস্যা বাড়ল বলে মত শিক্ষকমহলের।












