বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই আন্দোলনের সংগঠন জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টে এবার বড় অস্বস্তি। ‘অভয়া ফান্ড’ ঘিরে ওঠা বিতর্ক এবং সংগঠনের কাজকর্ম নিয়ে মতানৈক্যের জেরে সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাতো (Aniket Mahato)।
কেন তৈরি হয়েছিল অভয়া ফান্ড?
অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবিকে সামনে রেখে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্যই তৈরি হয়েছিল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। আর জি কর হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাতো (Aniket Mahato), দেবাশিস হালদার এবং আসফাকুল্লা নাইয়ারা এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আইনি লড়াইয়ের খরচ জোগাড় করার জন্য তাঁরা তৈরি করেন ‘অভয়া ফান্ড’।
অভয়া ফান্ডের অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ, সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা অনিকেতের (Aniket Mahato)
কিছুদিন পর থেকেই এই তহবিল ঘিরে অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। পাশাপাশি, সংগঠনের আন্দোলনের দিক বদলাচ্ছে বলেও অনেকে অভিযোগ তুলতে থাকেন। এই পরিস্থিতিতেই সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অনিকেত মাহাতো (Aniket Mahato)। বছরের প্রথম দিন, বৃহস্পতিবার তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। ইস্তফাপত্রে অনিকেত স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংগঠনের কাজকর্ম তাঁর কাছে অগণতান্ত্রিক মনে হয়েছে। তাঁর মতে, যেভাবে ফ্রন্ট চলছে, তা অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবির সঙ্গে মিলছে না। বারবার মতানৈক্য থাকা সত্ত্বেও তিনি যতটা পেরেছেন আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার রুমে এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। এই ঘটনার পর ন্যায়বিচারের দাবিতে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন তাঁর সহপাঠী ও সহকর্মীরা। পরে সিবিআই তদন্তভার নেয় এবং মামলার বিচার শেষ হয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সিভিক ভলান্টিয়ার ও হাসপাতালের অস্থায়ী নিরাপত্তারক্ষী সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে এই রায়ে সন্তুষ্ট নন মৃত চিকিৎসকের পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা। তাঁদের অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়ায় কিছু তথ্য গোপন রাখা হয়েছে এবং কাউকে আড়াল করা হয়েছে। সেই কারণেই এখনও দেশের শীর্ষ আদালতে তাঁদের আইনি লড়াই চলছে।
এই আইনি লড়াইয়ের খরচ জোগাতেই তৈরি হয়েছিল ‘অভয়া ফান্ড’। কিন্তু সেই তহবিল নিয়েই পরে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। অর্থ তছরূপের অভিযোগের পাশাপাশি সংগঠনের ভেতরের অসঙ্গতি নিয়েও ক্ষোভ বাড়ে।
অনিকেট মাহাতো (Aniket Mahato) জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর সতীর্থ দেবাশিস হালদার এবং আসফাকুল্লা নাইয়ারার বদলি নিয়ে যখন প্রতিবাদ চলছিল, তখনও তিনি সংগঠনের সঙ্গে ছিলেন। সংগঠনের সমস্যাগুলি বারবার নেতৃত্বকে জানালেও কেউ তা গুরুত্ব দেয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

আরও পড়ুনঃ বঙ্গজয়ের রোডম্যাপ তৈরি, কলকাতায় আসন টার্গেট বেঁধে দিলেন অমিত শাহ
সব মিলিয়ে, ট্রাস্ট ও এক্সিকিউটিভ কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং আইনি পরামর্শ না মেনেই যেভাবে ফ্রন্ট পরিচালিত হচ্ছে, তা অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবির পরিপন্থী বলেই মনে করছেন অনিকেত (Aniket Mahato)। সেই কারণেই তিনি জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।












