বাংলাহান্ট ডেস্ক: মণিপুরে (Manipur) পুনরায় নির্বাচিত সরকার গঠনের সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা ও জল্পনার সূচনা হয়েছে। রাজ্যের বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক বৈঠক এই সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করেছে। প্রায় এক বছর ধরে চলা রাষ্ট্রপতি শাসনের পরও রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় না ফেরায়, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় বসেছে কেন্দ্র। এই প্রেক্ষিতেই শুক্রবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
মণিপুরের (Manipur) পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৈঠকে অমিত শাহ:
২০২৩ সালের মে মাসে কুকি ও মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘর্ষে মণিপুর গভীর সংকটে পড়ে, যাতে প্রায় ২৬০ জন নিহত হন। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলেও রাজ্যে টেকসই শান্তি ও স্বাভাবিকতা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। চলমান অস্থিরতা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিং-এর ইস্তফার পর ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। সংসদের অনুমোদনক্রমে গত আগস্টে এই শাসনের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়।
আরও পড়ুন: নতুন বছরের শুরুতে ছাত্র বৃত্তি আর বিহু বোনাস নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কারা পাবেন?
রাষ্ট্রপতি শাসন জারি থাকলেও রাজ্যের বহু অঞ্চলে পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল ও অনিশ্চয়তাপূর্ণ বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। একাধিক জেলায় নিরাপত্তাবাহিনী কঠোর প্রহরায় থাকলেও সম্প্রদায়গুলির মধ্যে এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থাই নয়, একটি রাজনৈতিক সমাধানের দিকেও এখন ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা, যাতে একটি স্থায়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসন গঠনের পথ সুগম হয়।
এই সন্ধিক্ষণেই রাজ্যের রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা, নিরাপত্তা উপদেষ্টা কুলদীপ সিং, মুখ্যসচিব পি.কে. গোয়েল এবং রাজ্য পুলিশ প্রধান রাজীব সিং-এর মতো শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে অমিত শাহের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আলোচনায় রাজ্যের চলমান আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্গঠন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামগ্রিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

আরও পড়ুন:বড়দিনকে ছাপিয়ে রেকর্ড ভিড় ১লা জানুয়ারি, শহরে পর্যটক টানতে ‘ফার্স্ট বয়’ হল কে?
যদিও রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, একটি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করে যত দ্রুত সম্ভব রাজ্যে সাংবিধানিক সরকার পুনর্বহাল করাই কেন্দ্রের কৌশলগত লক্ষ্য। আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ফলাফলই আসন্ন দিনগুলিতে মণিপুরের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিশা নির্ধারণ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।












