বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আর জি কর হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর শহরের নিরাপত্তা জোরদার করতে CISF জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছিল। সেই নিরাপত্তার সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে কলকাতার ট্যাংরার একমাত্র চিনে স্কুলে। দীর্ঘদিন ধরে স্কুল ক্যাম্পাসে জওয়ানরা থাকায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে পড়াশোনা। এই পরিস্থিতিতে স্কুল খুলতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হল পেই মে চাইনিজ স্কুল কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন বন্ধ ট্যাংরার পেই মে চাইনিজ স্কুল
কলকাতার ট্যাংরা-তপসিয়া এলাকা, যা ‘চিনেপাড়া’ নামেই বেশি পরিচিত। এই এলাকায় শুধু চিনে রেস্তরাঁ নয়, বহু বছর ধরে বসবাস করছেন চিনা সম্প্রদায়ের মানুষজন। তাঁদের ছোটদের পড়াশোনার জন্য রয়েছে পেই মে চাইনিজ স্কুল। একসময় এখান থেকেই প্রকাশিত হতো কলকাতার একমাত্র চিনে সংবাদপত্রও, যা মাসখানেক আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এই স্কুলের পড়াশোনা পুরোপুরি বন্ধ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও এখনও স্কুল খোলার কোনও রাস্তা বেরোয়নি।
আর জি কর কাণ্ডের পর CISF মোতায়েন
২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর হাসপাতালে এক জুনিয়র চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর শহরের নিরাপত্তা জোরদার করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতায় অতিরিক্ত CISF জওয়ান মোতায়েন করা হয়। সেই সময় থাকার জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল ট্যাংরার এই বন্ধ থাকা চিনে স্কুলটিকেই। স্কুলের মোট ১৮টি শ্রেণিকক্ষে বর্তমানে সিআইএসএফ জওয়ানরা রয়েছেন। নিরাপত্তার প্রয়োজন মিটলেও, এর জেরে বন্ধ হয়ে রয়েছে স্কুলের স্বাভাবিক পড়াশোনা।
স্কুল খোলার দাবি, হাই কোর্টে (Calcutta High Court) মামলা
প্রশ্ন উঠছে, আর কতদিন এভাবে চলবে? দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনা বন্ধ থাকায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। শেষ পর্যন্ত স্কুল ক্যাম্পাসের ১৮টি ক্লাসরুম খালি করে পড়াশোনা শুরু করার দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয় পেই মে চাইনিজ স্কুল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলাটি ওঠে। শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই CISF জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছিল এবং তখন বন্ধ থাকা স্কুলটিকেই থাকার জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ ভোটার হয়রানির অভিযোগে সরব তৃণমূল, পাল্টা আক্রমণে শুভেন্দু অধিকারী বললেন…
রাজ্যের কাছে নথি চাইল আদালত
এই বিষয়ে রাজ্যের কাছে কী নথি রয়েছে, তা দেখতে চেয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও রাজ্যকে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৫ জানুয়ারি।












