বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটার তালিকা সংশোধনে রাজ্যে চলছে SIR বা Special Intensive Revision প্রক্রিয়া। শুরু থেকেই এই SIR প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য সরকারের আপত্তি ছিল। তা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে SIR প্রক্রিয়া চালু হয়েছে এবং সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে শুনানিও (SIR Hearing)। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বহু মানুষের বাড়ি থেকে শুনানি কেন্দ্র অনেক দূরে হওয়ায় সেখানে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত, বিচ্ছিন্ন জনবসতি ও বনাঞ্চলের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি। সেই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই এবার SIR শুনানি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
SIR শুনানি (SIR Hearing) নিয়ে নতুন কি ব্যবস্থা নিল কমিশন?
এসআইআর শুনানি (SIR Hearing) প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা ভেবে ‘ডিসেন্ট্রালাইজড হিয়ারিং সেন্টার’ বা বিকেন্দ্রীভূত শুনানি কেন্দ্রে শুনানি পরিচালনার অনুমতি দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এর ফলে প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক এলাকার বাসিন্দারাও সহজে এসআইআর শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। সম্প্রতি রাজ্যের ১২টি জেলার নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও-রা এই মর্মে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেয় কমিশন।
এই বিকেন্দ্রীভূত শুনানি কেন্দ্র বলতে কী বোঝানো হচ্ছে? খুব সহজভাবে বলতে গেলে, স্থানীয় বা আঞ্চলিক স্তরে তৈরি হওয়া এমন শুনানি কেন্দ্র, যেখানে দূরদূরান্ত থেকে মানুষকে আর জেলা সদর বা নির্দিষ্ট কেন্দ্রে যেতে হবে না। রাজ্যের বিচ্ছিন্ন জনবসতি কিংবা প্রান্তিক এলাকায় থাকা মানুষ যাতে সহজেই এসআইআর শুনানিতে (SIR Hearing) অংশ নিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
ডিইও-দের পাঠানো প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ১২টি জেলায় এই বিশেষ শুনানি কেন্দ্র তৈরি হবে। জেলাগুলি হল দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, নদিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলাগুলিতে মোট ১৬০টি বিকেন্দ্রীভূত শুনানি কেন্দ্র (SIR Hearing) গড়ে তোলা হবে। নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, প্রতিটি শুনানি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শুনানি প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সে দিকে কড়া নজর রাখতে হবে প্রশাসনকে। পাশাপাশি, কোনও ধরনের বহিরাগত প্রভাব বা হস্তক্ষেপ যাতে না ঘটে, সেই বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ জনতার অভিযোগের মুখোমুখি অভিষেক, শেষ প্রশ্নে বদলে গেল সভার মেজাজ, কী লেখা ছিল চিরকুটে?
এছাড়াও জনপ্রতিনিধিত্ব আইন মেনে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের সমস্ত শুনানি (SIR Hearing) সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে বলেও নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে SIR শুনানিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আরও সহজ ও বাস্তবসম্মত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।












