জন্ম থেকেই নেই ২ টি হাত! অদম্য জেদকে সঙ্গী করে চিকিৎসক হয়ে নজির গড়লেন রূপম কুমারী

Published on:

Published on:

Rupam Kumari's Success Story will inspire you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: উভয় হাত ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি, কিন্তু জীবনের কাছে কখনও হার মানেননি। অসাধারণ সাহস, অধ্যবসায় এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে নিজের সাফল্যের কাহিনি (Success Story) নিজেই লিখেছেন বিহারের রূপম কুমারী। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে তিনি আজ নেট (NET) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পিএইচডি করছেন। তাঁর এই সাফল্যের গল্প এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে এবং অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

রূপম কুমারীর অদম্য ইচ্ছে শক্তিতে লেখা নিজের সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

রূপম কুমারীর জন্ম বিহারের পূর্ণিয়া জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে। জন্ম থেকেই তাঁর দুই হাত ছিল না। ছোটবেলা থেকেই প্রতিদিনের জীবন ছিল সংগ্রামে ভরা। সাধারণ কাজ থেকে পড়াশোনা—সব ক্ষেত্রেই তাঁকে অতিরিক্ত লড়াই করতে হয়েছে। তবে শারীরিক অসুবিধাকে কখনও দুর্বলতা হিসেবে দেখেননি রূপম। ধীরে ধীরে তিনি পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখেন এবং নিজের লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য দৃঢ় সংকল্প গড়ে তোলেন।

আরও পড়ুন:‘আমি ভালো নেই’, বৈবাহিক জীবনে সমস্যা? লাইভ ভিডিও শেষে আত্মহত্যার চেষ্টা দেবলীনার

হাত না থাকায় পড়াশোনা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অসম্ভবকে সম্ভব করার পথই বেছে নেন তিনি। রূপম পা দিয়ে লেখা রপ্ত করেন এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়ান। ২০০৯ সালে তিনি দশম শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এর পর ধাপে ধাপে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যান। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ এবং নিষ্ঠা কখনও কমেনি।

কলেজে পড়ার সময় থেকেই তিনি উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রম করে তিনি নেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, যা দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষাগুলির মধ্যে একটি। বর্তমানে তিনি ভূপেন্দ্র নারায়ণ মণ্ডল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করছেন। পিএইচডি সম্পন্ন হলে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করবেন এবং তাঁর নামের আগে যুক্ত হবে ‘ডক্টর’ উপাধি, যা তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

Rupam Kumari's Success Story will inspire you.

আরও পড়ুন:‘আমি খুশি নই’, প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসা করেও ভারতের ওপর ফের শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

শুধু নিজের ভবিষ্যৎ গড়াই নয়, সমাজের প্রতিও দায়বদ্ধ রূপম। পড়াশোনার খরচ চালানো এবং পরিবারকে সাহায্য করার জন্য তিনি নিজের গ্রামের শিশুদের টিউশন পড়ান। তিনি বিবাহিত এবং তাঁর স্বামী একজন বেসরকারি শিক্ষক, যিনি সব সময় তাঁর পাশে থেকেছেন। রূপম কুমারীর জীবনকাহিনি প্রমাণ করে, আসল শক্তি শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নয়, বরং মানুষের মনোবল, সাহস এবং অদম্য দৃঢ়তার মধ্যেই নিহিত।