বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কয়েকদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আবার কংগ্রেসে ফিরেছেন মৌসম বেনজির নূর। তার পর থেকেই মালদহের (Malda) রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কি প্রার্থী হবেন, আর হলে কোন কেন্দ্র থেকে দাঁড়াবেন, তা নিয়েই জল্পনা বাড়ছে।
মৌসম নূরকে ঘিরে মালদহে (Malda) রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে
তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফেরার পর মৌসম নূরকে ঘিরে মালদহে (Malda) রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেন। সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে মালতীপুর এবং রতুয়া বিধানসভার নাম। তবে সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে মৌসম নূরের প্রথম পছন্দ মালতীপুর। মালতীপুরের বর্তমান বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী। তিনি তৃণমূলের মালদহ জেলা সভাপতি। মৌসম তৃণমূলে থাকাকালীন দু’জনের সম্পর্ক ভালো ছিল না। দু’জন ছিলেন দুই বিপরীত শিবিরে। সেই কারণেই মালতীপুরে মৌসমের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য। কয়েকদিন আগে চাঁচলের এক সভা থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আব্দুর রহিম বক্সীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বলেন, তৃণমূল যদি মালতীপুরে রহিম বক্সীকে প্রার্থী করে, তাহলে তিনি তাঁকে হারাবেন। শুভেন্দুর বলেন, “রহিমকে আমি জিততে দেব না।” প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে মৌসম নূরের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পিছনে শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়। আবার মৌসম কংগ্রেসে ফেরার পর তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র আশিস কুন্ডু দাবি করেন, শুভেন্দুর কথাতেই তিনি কংগ্রেসে ফিরেছেন।
এদিকে কংগ্রেসের লক্ষ্য স্পষ্ট – মুসলিম ভোট। মালদহে (Malda) গনি খান চৌধুরীর পরিবারের প্রতি মানুষের, বিশেষ করে মুসলিম ভোটারদের, আলাদা টান রয়েছে। গনি খানের মৃত্যুর পরও তাঁর নাম ভোটের রাজনীতিতে বারবার উঠে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত বিধানসভা ভোটে NRC ইস্যু সামনে এনেছিল তৃণমূল। কিন্তু এ বার মুসলিম ভোটারদের মধ্যে সেই আগের মতো আস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে মৌসম নূরের কংগ্রেসে ফেরা এবং গনি পরিবারের নাম সামনে আনা কংগ্রেসের বড় ভরসা।

আরও পড়ুনঃ ৭২ থেকে বাড়িয়ে ১২৬! গঙ্গাসাগর মেলার ভিড় সামলাতে ট্রেন সংখ্যা বাড়িয়ে নজির শিয়ালদহের
মালদহ (Malda) বরাবরই কংগ্রেসের শক্ত এলাকা। পাশাপাশি তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলকেও কাজে লাগাতে চাইছে কংগ্রেস। এখনও তৃণমূলে মৌসম গোষ্ঠীর অনেক নেতা-কর্মী রয়েছেন, যাঁরা বিভিন্ন পদে আছেন। তাঁরা আদৌ দলের ভিতরে প্রভাব ফেলবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে তৃণমূলের দাবি, মৌসম নূরের দল ছাড়া নিয়ে তারা চিন্তিত নয়। তাদের বক্তব্য, ভোট হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব দেখেই। সব মিলিয়ে, মালদহে মৌসম নূরের প্রার্থী হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়।












