বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষক হওয়ার অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর জন্য আজ খুব গুরুত্বপূর্ণ দিন। ২০২০-২২ শিক্ষাবর্ষের ডি.এল.এড (D.El.Ed) নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি আজ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) হচ্ছে। ২৮০০টি শূন্যপদ কেন পূরণ হয়নি, সেই প্রশ্নের উত্তর আজ আদালত কী দেয়, তার দিকেই তাকিয়ে সবাই।
২৮০০ শূন্য পদ পূরণ না হওয়া নিয়ে মামলা সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)
এই মামলার মূল বিষয় হলো ২৮০০টি শূন্যপদ। পর্ষদ আগে জানিয়েছিল, মোট প্রায় ১১,৭৬৫টি শূন্যপদের মধ্যে ২৮০০টি পদ আলাদা করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এই ২৮০০ পদের মধ্যে মাত্র ১৯৬৬ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০টি পদ এখনও শূন্য রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মেধা তালিকায় যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও এবং হাতে শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও কেন সবাইকে নিয়োগ দেওয়া হলো না?
মামলাকারীদের পক্ষ থেকে আজ আদালতে এই প্রশ্নই তোলা হতে পারে। তাঁদের দাবি, শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও এবং যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ না হওয়াটা অন্যায়। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ চাইলে রিক্লাসিফিকেশন বা অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কি এই পদগুলি পূরণ করা যেত না। এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ এবং তার আশেপাশে নতুন করে একাধিক এম.এ (Miscellaneous Application) জমা পড়েছে। এই নতুন আবেদনগুলির ফলে মামলার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নতুন করে যে পিটিশনগুলি জমা পড়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল –
- অরিন্দম মার্জিত বনাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য (ডায়েরি নম্বর ১০৭৪২/২০২৬),
- শোভা রানী বাই বনাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য (ডায়েরি নম্বর ১০৭৭/২০২৬),
- সৌমেন মন্ডল বনাম পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।
এই আবেদনগুলি থেকেই বোঝা যাচ্ছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বঞ্চিত মনে করা প্রার্থীর সংখ্যা কম নয় এবং তাঁরা আইনি পথে নিজেদের অধিকার আদায় করতে চাইছেন।
আজ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) ৬ নম্বর কোর্টে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলাটি বিচারপতি অমৃতা পান্ডে এবং তাঁর সহযোগী বিচারপতির বেঞ্চে ৪৭ নম্বর আইটেম হিসেবে তালিকাভুক্ত। বিশেষ করে যাঁরা আন-অবজারভড বা অনাবসর্ভড প্রার্থী হিসেবে রয়ে গিয়েছেন, তাঁদের দাবিও আজ গুরুত্ব পেতে পারে।

সুপারনিউমারারি পোস্ট তৈরি করা সত্ত্বেও কেন সমস্ত শূন্যপদ পূরণ করা হয়নি, সেই বিষয়েও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের ব্যাখ্যা তলব করতে পারে শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। সব মিলিয়ে, ২০২০-২২ ডি.এল.এড প্রার্থীদের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের শুনানির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ।












