বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনের মাধ্যমেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিল আমেরিকা (America)? এই জল্পনাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির অন্দরমহলে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বুধবার তিনি এক্সিকিউটিভ অর্ডারে সই করে আমেরিকাকে এক ধাক্কায় ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও চুক্তি থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে, দেশের প্রতিরক্ষা বাজেট ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি সিদ্ধান্ত মিলিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র ও সামরিক নীতি আগামী দিনে আরও আক্রমণাত্মক রূপ নিতে পারে।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের পর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে আমেরিকা (America)?
সরকারি ব্যয় কমানোর অজুহাতে বিশ্বজুড়ে একাধিক সাহায্য প্রকল্প ইতিমধ্যে বন্ধ বা কমিয়ে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলি থেকে দ্রুত সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, এই সংস্থাগুলির কার্যকলাপ মার্কিন স্বার্থবিরোধী। তালিকায় থাকা ৬৬টি সংস্থার মধ্যে ৩১টিই সরাসরি জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত। ভারত ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ জোটও এই তালিকায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: বাবা বিক্রি করতেন সবজি! অভাবের সংসারে পড়াশোনা চালিয়ে DSP হয়ে পরিবারের স্বপ্নপূরণ পঙ্কজের
এসব সংস্থা থেকে সম্পর্কচ্ছেদের পাশাপাশি আমেরিকার প্রতিরক্ষা বাজেট ৫০ শতাংশ বাড়ানো আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থায় অর্থায়ন বন্ধ করে সেই অর্থ সরাসরি সামরিক খাতে ঢালাই এই কৌশলের মূল লক্ষ্য। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, নৌবহর শক্তিশালীকরণ এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণে এই অর্থ কাজে লাগানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ ও রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার এবং রুশ জাহাজ দখলের ঘটনায় মস্কোর কঠোর প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সামরিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তগুলিকে অনেক বিশ্লেষক একটি বৃহত্তর সংঘাতের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন।

আরও পড়ুন: অফিসযাত্রীদের জন্য স্বস্তি! ব্লু লাইনে বাড়াল মেট্রো পরিষেবা,নতুন সময়সূচি জানুন
সর্বোপরি, আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিকতাবাদ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বড়সড় সিদ্ধান্ত এবং একই সঙ্গে নিজেদের সামরিক শক্তি বিপুলভাবে বাড়ানো আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য এক গভীর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই পদক্ষেপগুলি কি ভবিষ্যতে কোনও বড় যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত? বিশ্ব রাজনীতি এখন সতর্ক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী কৌশল।












