বাংলাহান্ট ডেস্ক: চিকেনস নেক অঞ্চলে নিরাপত্তায় আরও সতর্ক বিএসএফ (Border Security Force)। প্রতিবেশী বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার আবহে ভারত–বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে মোদী সরকার। সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকেন’স নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর অঞ্চলে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)। সূত্রের খবর, এই করিডোর সংলগ্ন প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকায় নতুন নকশার সীমান্ত বেড়া বা এনডিএফ (New Design Fencing) বসানো হয়েছে, যাতে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান কার্যকর ভাবে রুখে দেওয়া যায়।
চিকেনস নেকে নিরাপত্তা বাড়াতে বড় পদক্ষেপ বিএসএফের (Border Security Force):
বিএসএফ আধিকারিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশেষ ভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে ১২ ফুট উঁচু অত্যাধুনিক নকশার বেড়া বসানো হয়েছে। এই বেড়ার গঠন এমন যে, তা কেটে পেরোতে বেশ কয়েক মিনিট সময় লাগে এবং উচ্চতার কারণে টপকানোও অত্যন্ত কঠিন। একই সঙ্গে এলাকা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনায় বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কৌশলের আওতায়, সীমান্তের কাছাকাছি যে সব অঞ্চল থেকে গবাদি পশু সংগ্রহ করে পাচারের চেষ্টা করা হয়, সেগুলিকেই মূল লক্ষ্য করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের পর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে আমেরিকা? কী পরিকল্পনা ট্রাম্পের?
চোরাচালান নেটওয়ার্কের গোড়ায় আঘাত হানতে প্রয়োজনে বিএসএফের দল ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভিতরেও অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে শুধু সীমান্তে নয়, সীমান্তের আশপাশের এলাকাতেও চোরাচালান চক্রের গতিবিধিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিএসএফের দাবি, এই নতুন বেড়া ও সক্রিয় অভিযানের ফলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং গরু পাচারের মতো ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে।
সাম্প্রতিক বেশ কয়েক মাস ধরেই অসাবধানতাবশত বা অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করা একাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বিএসএফ। পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের পর তাঁদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আটক ব্যক্তিদের আঙুলের ছাপ, পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক বা দেশবিরোধী যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:I-PAC-এ তল্লাশিতে বাধা দেওয়ায় যুক্ত হল মুখ্যমন্ত্রীর নাম! আদালতের কাছে CBI তদন্তের দাবি ED-র
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮৫ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য বাজেয়াপ্ত করেছে বিএসএফ। এর মধ্যে রয়েছে গবাদি পশু, সোনা, রূপা, বন্যপ্রাণীজাত পণ্য, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী। একই সময়ে ৪৪০ জন বাংলাদেশি, ১৫২ জন ভারতীয় এবং ১১ জন অন্যান্য দেশের নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ১৮৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিএসএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বেড়ার আওতা আরও বাড়ানো, প্রযুক্তিগত নজরদারি জোরদার করা এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় সীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে, যাতে কোনও পরিস্থিতিতেই চিকেন’স নেক অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।












