বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত (India)-চিন বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার একটি বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত সরকারি দরপত্রে চিনা কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণের ওপর যে কড়া নিবন্ধন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, সেই নিয়মগুলি শিথিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অচলাবস্থা কাটিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে গতি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে ভারত (India):
২০২০ সালের নিয়ম অনুযায়ী, চিনা কোম্পানিগুলিকে ভারতের সরকারি চুক্তির দরপত্রে জমা দিতে হলে প্রথমে একটি বিশেষ সরকারি কমিটির কাছে তাদের বিস্তারিত তথ্য নিবন্ধন করতে হতো এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ছাড়পত্র নিতে হতো। এই জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অনেক চিনা প্রতিষ্ঠান সরকারি প্রকল্পের বাজার থেকে কার্যত বাদ পড়ে যায়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, এই বিধিনিষেধের ফলে চিনা কোম্পানিগুলি প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ বিলিয়ন ডলারের সরকারি চুক্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে অশান্তির আবহ! চিকেন’স নেকের নিরাপত্তা বাড়াতে এবার বড় পদক্ষেপ BSF-এর
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক এখন এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে এগোচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই পদক্ষেপের পিছনে ভারতীয় বিভিন্ন সরকারি বিভাগ ও শিল্প সংস্থাগুলির দীর্ঘদিনের দাবি কাজ করছে। বিধিনিষেধের কারণে ভারতকেও চিন থেকে জরুরি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও শিল্পযন্ত্রাংশ আমদানিতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
এই নীতি পরিবর্তনের পটভূমিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিস্থিতির পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ভারতের উপর আরোপিত উচ্চ শুল্কের প্রেক্ষাপটে নয়া দিল্লি তার বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে, যেখানে চিন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত বছর প্রধানমন্ত্রীর চিন সফরের পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে এবং চিনা ব্যবসায়ীদের জন্য দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া চালু হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের আগে বড় আপডেট! পরীক্ষায় কী কী নিয়ম মানতে হবে জানাল বোর্ড পর্ষদ
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই-এর ক্ষেত্রে চিনা সংস্থাগুলির উপর এখনও বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। দরপত্রের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করাকে ভারত-চিন সম্পর্কের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা কূটনৈতিক স্তরে উত্তেজনা প্রশমন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা পুনরুদ্ধারের পথ সুগম করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।












