জলপাইগুড়ির গর্ব, চাষির ঘর থেকে কোটি টাকার চাকরি পেলেন জলপাইগুড়ির সুমন বেরা

Published on:

Published on:

Jalpaiguri a farmer's son fulfills his dream securing a multi-crore package
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: এ গল্প যেন এক স্বপ্নের মতো। মাত্র ২১ বছর বয়সে কোটি টাকার চাকরি পেল জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র সুমন বেরা। এই খবর জানাজানি হতেই খুশির আমেজ পরিবার ও এলাকায়।জানা যায়, জলপাইগুড়ি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র সুমন বেরা। এবার তিনি সাফল্যের নজির গড়লেন। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থা ‘লিঙ্কডইন’ থেকে তার কাছে এসে মোটা মাইনের চাকরির অফার লেটার।  এতেই খুশির হওয়া ছড়িয়েছে কলেজ পড়ুয়া ও শিক্ষক মহলে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষে বেঙ্গালুরু ওই সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগদান করবেন সুমন।

চাষির ছেলের স্বপ্নপূরণ, জলপাইগুড়ি সরকারি কলেজ থেকেই কোটির প্যাকেজ (Jalpaiguri)

পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরের দু নম্বর ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা সুমন। কলেজের আইটি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এই ছাত্র বার্ষিক এক কোটি টাকা বেতনে আমেরিকার বহুজাতিক সংস্থা ‘লিঙ্কডইন’ এ চাকরি পেয়েছে। কলেজের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এত বেশি বেতনের চাকরিপ্রাপ্তি এই কলেজের ইতিহাসে প্রথম। এছাড়াও শুক্রবার জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কর্তৃপক্ষ সুমনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে।

 Jalpaiguri a farmer's son fulfills his dream securing a multi-crore package

আরও পড়ুন: চিতল নয় এবার চিংড়ি দিয়ে মুইঠ্যা বানিয়ে ফেলুন সহজ পদ্ধতিতে, প্রণালী দেখে নিন

ছোটবেলা থেকে দারিদ্রতা ছিল  নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে এই দারিদ্রতা কখনই তার মেধাকে হার মানাতে পারেনি। দারিদ্রতাকে তাচ্ছিল্য করে কোটি টাকার চাকরি পেল বছর ২১ এর সুমন বেরা। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুমনের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুরের অত্যন্ত গ্রামে। বাড়িতে রয়েছেন বাবা-মা ও দিদি। দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে।  পাঁচ বছর আগের সরকারি আবাসন প্রকল্পে ঘর পাওয়ায় মাথার ওপরে ছাদপাকা করতে পেরেছিল। আর মাত্র দু বিঘা জমির উপরেই নির্ভর করে চলত সুমন বেরাদের সংসার ।

অসুস্থতার কারণে সুমন বেরা’র বাবা এখন আর কৃষি কাজ করতে পারে না। কিন্তু এই পরিবারের ছোট্ট ছেলে এবার ইতিহাস গড়েছেন। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী নামে পরিচিত ছিল সুমন। বারবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে ২০২০ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯৬.৯৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে ব্লকের প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। এরপর মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিকে ৯৪% নম্বরে পেয়ে পাশ করেন। তারপর এই জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিয়ে ২৪০০ র‍্যাঙ্ক করে ভর্তি হয় জলপাইগুড়ি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের আইটি বিভাগে। যদি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্কলারশিপ পেয়েছিলেন সুমন।

এই স্কলারশিপের টাকা দিয়েই স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত পুরো পড়াশোনা চালিয়েছেন তিনি। যদিও কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। ‌ সুমন জানান, আর্থিক অনটন সংসারে লেগেই থাকতো। অর্থের অভাবে বারবার পড়াশোনা করার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে একটাই লক্ষ্য ছিল কিছু করতে হবে। আর এবার এই বিদেশি সংস্থা চাকরি পাওয়ার প্রসঙ্গে সুমন জানায়, প্রতিবছর আমেরিকার ‘লিঙ্কডইন’ কোম্পানি ইন্টার্নশিপের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়। সেই বিজ্ঞাপনে নজর আসার পরে গত বছর আবেদন করি। অনলাইনে ইন্টারভিউ নেয় সংস্থাটি। তারপর ইন্টারভিউতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর গত বছর মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সেখানে ইন্টার্নশিপ করি। আমার পারফরম্যান্স দেখে কোম্পানি চাকরির অফার দেয়।

যদি এই মুহূর্তে সুমনের চতুর্থ বছরের পরীক্ষা চলছে। ফল প্রকাশের পর চলতি বছর জুন মাসে বেঙ্গালুরুতে যোগদান করবেন তিনি‌। তার এই সাফল্য জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ অমিতাভ রায় বলেন, নিঃসন্দেহে একটি বড় সাফল্য। এর আগেই কলেজ থেকে পড়ুয়ারা গুগল বা মাইক্রোসফট এর মতন সংস্থা চাকরি পেয়েছে। তবে এই বার্ষিক এক কোটি টাকার বেতন কেউ পায়নি। তারা যথেষ্ট গর্ব করছেন সুমনকে নিয়ে।