বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আদালত কক্ষে বিশৃঙ্খলা, তুমুল হইচই! সবশেষে উপচে পড়া ভিড়ের মাঝেই নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরী হয়। এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান বিচারপতি ঘোষ। স্থগিত হয়ে যায় তৃণমূল ভার্সাস ইডি মামলা। আইপ্যাক-কাণ্ডে (I-PAC) ইডি দ্রুত শুনানির আর্জি জানালেও সেই আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। এই নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এদিকে আগেভাগেই সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে রাজ্য (Government of West Bengal)।
কী এই ক্যাভিয়েট?
ক্যাভিয়েট দাখিল করার অর্থ হল, যাতে একতরফা শুনানি আটকানো যায়। প্রতিপক্ষ যাতে কোনও সুবিধা না নেয়, অবগত না করে যাতে কোনও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হয় সেই উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, হাইকোর্ট ইডির আবেদনে সায় না দেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়তে পারে সংস্থা, নিয়ে চর্চা চলছিল। ইডি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগেই শনিবার সর্বোচ্চ আদালতে ক্যাভিয়েট করে রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে কয়লা পাচারের পুরোনো একটি মামলার তদন্তে আইপ্যাকের সল্টলেকের দপ্তর এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেখানে তল্লাশি চলাকালীনই তড়িঘড়ি প্রতীক জৈনের বাড়িতে পুলিশের বিরাট বাহিনী নিয়ে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
সেখানে বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর প্রতীকবাবুর বাড়ি গিয়ে মোটা ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে পরে তিনি আইপ্যাকের দপ্তরে গিয়েও বেশ কিছু নথি সংগ্রহ করেন। সংবাদমাধ্যমকে মমতা জানান, ওইসব তাঁর দলের নথি। এদিকে এই ঘটনায় পাল্টা মমতার বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে আদালতের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয় ইডি।

অভিযোগ, আইপ্যাকের দফতরে এবং তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। উল্টো দিক থেকেও এসেছে একই রকম অভিযোগ। মূলত দু’পক্ষেরই যুক্তি, ‘বেআইনি’ এবং ‘অসংবিধানিক’ পদক্ষেপ করা হয়েছে। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে দু’তরফের আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বিচারপতি ঘোষ জানান, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৪ জানুয়ারি। এই অবস্থায় আইপ্যাক কাণ্ডের জল গড়াল সুপ্রিম কোর্টে। CBI তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে ইডি।












