বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাম মন্দির চত্বরে এক মুসলিম যুবকের নমাজ পড়ার চেষ্টা ঘিরে শুক্রবার চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবককে আটক করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সামনে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে রাম মন্দিরে বিশেষ অনুষ্ঠান থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনায় মন্দির চত্বরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাও তৈরি হয়।
রাম মন্দির (Ayodhya Ram Temple) চত্বরে এক মুসলিম যুবকের নমাজ পড়ার চেষ্টা ঘিরে চাঞ্চল্য
জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে আহমেদ শেখ নামে ওই যুবক রাম মন্দির চত্বরে প্রবেশ করেন। প্রথমে তিনি সাধারণ দর্শনার্থীর মতোই মন্দির পরিদর্শন করেন। কিছুক্ষণ পরে সীতা রসুইয়ের কাছে গিয়ে বসেন তিনি। সেখানেই নমাজ পড়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। বিষয়টি কয়েকজন দর্শনার্থীর নজরে আসতেই তাঁরা দ্রুত নিরাপত্তারক্ষীদের বিষয়টি জানান।
আরও পড়ুন: বন্দে ভারত স্লিপারেই শেষ নয়, বালুরঘাট-জলপাইগুড়িবাসীর জন্য রেলের ‘ডাবল চমক’
খবর পেয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা তৎপরতার সঙ্গে ওই যুবককে আটক করে মন্দির চত্বরের বাইরে নিয়ে যান। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পারে, আহমেদ শেখ কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার বাসিন্দা। তাঁর পরনে কাশ্মীরি ধাঁচের পোশাকও ছিল। ঠিক কী উদ্দেশ্যে তিনি রাম মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেখানে নমাজ পড়ার চেষ্টা করছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই ঘটনার পর থেকেই রাম মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে উৎসবের আগে এমন একটি ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আটক যুবকের অতীত ও যোগাযোগের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ছুটির দিনে সোনা-রূপোর দাম তুঙ্গে, পকেটে চাপ বাড়ল মধ্যবিত্তের, আজকের রেট জানুন
উল্লেখ্য, রাম মন্দিরের ‘রেড জোন’-এ প্রায় ১০০ জন বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকেন, যাঁরা এনএসজি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। পাশাপাশি গোটা মন্দির চত্বরে সিআরপিএফ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও পিএসি-র জওয়ানরা সার্বক্ষণিক টহল দেন। মন্দিরে প্রবেশ ও বেরোনোর প্রতিটি পথে কড়া নজরদারি রয়েছে। চারদিকে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ বাউন্ডারি ওয়াল, অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা, স্ক্যানার ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তবুও এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আঁটসাঁট করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।












