PF নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার! কারা পাবেন সুবিধা, কাদের কমবে বেতন?

Published on:

Published on:

EPFO set to revise PF wage ceiling
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দেশে লক্ষ লক্ষ প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টধারীর জন্য বড় সুখবর আসতে পারে। সূত্রের খবর, এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-এর অধীনে পিএফ হিসাবের জন্য বেতনের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

পিএফ আবেদনের ক্ষেত্রে বেতনের সীমা বাড়ানো কথা ভাবা হচ্ছে (EPFO)

বর্তমানে পিএফ (EPFO) আবেদনের ক্ষেত্রে বেতনের সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা। এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই সীমা অপরিবর্তিত থাকায়, এখন তা বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই বেতন সীমা বাড়িয়ে ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা করা হতে পারে।

উচ্চ বেতনের কর্মচারীরাও এবার সুবিধার আওতায়

এই পরিবর্তন কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন উচ্চ বেতনের কর্মচারীরা। এতদিন যাঁদের বেতন ১৫,০০০ টাকার বেশি, তাঁদের পিএফ (EPFO) আবেদন একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই আটকে থাকত। নতুন নিয়মে বেশি মূল বেতনের উপর পিএফ হিসাব হবে, ফলে মাসিক জমার অঙ্ক বাড়বে। সূত্র বলছে, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, বেতন কাঠামোর পরিবর্তন এবং কর্মচারীদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই বদল হলে সঞ্চয়, পেনশন এবং হাতে পাওয়া বেতনের উপর সরাসরি প্রভাব পড়বে।

বেতন সীমা বাড়লে কী সুবিধা মিলবে?

পিএফ বেতনের সীমা যদি ২৫,০০০ বা ৩০,০০০ টাকা করা হয়, তাহলে অবসরকালীন সঞ্চয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমানে সীমার কারণে পিএফে কম টাকা জমা পড়ে। নতুন সীমা চালু হলে মাসিক বিনিয়োগ বাড়বে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদে বড় অঙ্কের তহবিল তৈরি হবে। পিএফ কাঠামোর সঙ্গে পেনশন সরাসরি যুক্ত। তাই পিএফ এ অবদান বাড়লে পেনশনের পরিমাণও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি, পিএফের উপর প্রাপ্ত সুদ কর-মুক্ত হওয়ায় এটি দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী সঞ্চয় মাধ্যম হিসেবেই বিবেচিত হয়। সরকারের ধারণা, এই সিদ্ধান্ত কর্মচারীদের সামাজিক নিরাপত্তা আরও মজবুত করবে। বিশেষ করে বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মচারীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পিএফ ছাড়া তাঁদের অবসরের জন্য তেমন বিকল্প থাকে না।

সুবিধার পাশাপাশি কি চাপ বাড়বে?

তবে এই পরিবর্তনের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। বেতনের সীমা বাড়লে কর্মচারীদের হাতে পাওয়া বেতন কমতে পারে। কারণ কর্মচারী ও নিয়োগকর্তা, দু’পক্ষকেই পিএফে বেশি বিনিয়োগ রাখতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কারও মূল বেতন ৩০,০০০ টাকা হয়, তাহলে ১২ শতাংশ হারে পিএফ কাটার অঙ্ক বর্তমানের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যাবে। এতে মাসিক হাতে পাওয়া টাকা কমে যাবে। বিশেষ করে যাঁদের পারিবারিক দায়িত্ব বেশি বা যাঁরা কর্মজীবনের শুরুতে আছেন, তাঁদের জন্য এটি তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি করতে পারে।

EPFO Interest Rule May Change

আরও পড়ুনঃ SIR প্রক্রিয়া নিয়ে আরও কড়াকড়ি কমিশনের! বাংলা নিয়ে নয়া সিদ্ধান্ত

কোম্পানিগুলির উপরও বাড়তি চাপ পড়বে, কারণ তাদেরও সমপরিমাণ অবদান দিতে হবে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এর প্রভাব নতুন নিয়োগ এবং বেতন কাঠামোর উপরও পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, সরকার যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে, তাহলে কর্মচারীদের বাড়তি পিএফ অবদান এবং কমে যাওয়া হাতে পাওয়া বেতনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে নতুন করে আর্থিক পরিকল্পনা করতে হতে পারে।