বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে ইডির তল্লাশি ও তদন্ত ঘিরে যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা ইতিমধ্যে পৌঁছেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে (Supreme Court)। রাজ্য পুলিশ, প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তবে মামলা দায়ের করলেও জরুরি শুনানির জন্য সেই বিষয়টি আলাদা করে উল্লেখ করেনি ইডি। এই পরিস্থিতিতে পুরো ঘটনা ও তার নেপথ্যের কারণ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জোড়া মামলায় কী কী অভিযোগ তোলে ইডি?
শনিবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এই সংক্রান্ত জোড়া মামলা দায়ের করা হয়। একটি পিটিশন দাখিল করে ইডি নিজে, অন্যটি দায়ের করেন ইডির তিন আধিকারিক। ওই দুই আবেদনে অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের। পিটিশনে তল্লাশিতে বাধা, বলপ্রয়োগ এবং সরকারি স্তরে হস্তক্ষেপের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
কিন্তু মামলা দায়ের করা হলেও সোমবার সেই মামলাগুলিকে আলাদা করে ‘মেনশন’ করেনি ইডি। সাধারণত জরুরি শুনানির প্রয়োজন হলে মামলাকারীরা প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে বিষয়টি আলাদা করে উল্লেখ করেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বসেছিল। কিন্তু সেই বেঞ্চের সামনে রাজ্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শোনার আবেদন জানায়নি ইডি। এর ফলে যতক্ষণ না মামলাগুলি কোনও বেঞ্চের তালিকায় উঠছে, ততক্ষণ শুনানির সম্ভাবনাও থাকছে না।
আইনি মহলের মতে, এর পিছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। আইপ্যাক-কাণ্ডে কলকাতা হাই কোর্টে আগেই মামলা দায়ের করেছে ইডি। সেই মামলার শুনানি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই হাই কোর্টে শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) একই বিষয়ে আলাদা করে জরুরি শুনানির আবেদন করা অযৌক্তিক বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। ইডির আইনজীবীরাও এই বিষয়টি জানেন।

আরও পড়ুনঃ সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেও চুপ ED! রাজ্যের বিরুদ্ধে কেন ‘মেনশন’ হল না জোড়া পিটিশন?
এছাড়াও, শনিবারই সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) একটি ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে রাজ্য সরকার। সেখানে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইপ্যাকের দপ্তর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি সংক্রান্ত কোনও মামলায় যদি সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়, তাহলে রাজ্য সরকারকে আগে জানাতে হবে। পাশাপাশি, কোনও নির্দেশ দেওয়ার আগে রাজ্যের বক্তব্য শোনার আবেদনও জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই সব দিক মাথায় রেখেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলাকে আলাদা করে ‘মেনশন’ করার পথে হাঁটেনি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।












