বাংলাহান্ট ডেস্ক: স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তীর দিনটিতেই ভারত-জার্মানি (India-Germany) কূটনৈতিক সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎসের নয়াদিল্লি সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও শিক্ষাসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিগুলি ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি রোডম্যাপ তৈরি করে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও বহুমুখী করে তুলেছে।
ভারত-জার্মানির (India-Germany) মধ্যে সম্পন্ন ৪ টি ঐতিহাসিক মৌ স্বাক্ষর:
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চুক্তিটি ছিল কৌশলগত খনিজ ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত। আধুনিক ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তির মূল ভিত্তি এই সেমিকন্ডাক্টর। জার্মানির প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভারতের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই ভারতের আকাশসীমায় পাকিস্তানি ড্রোন! তৎক্ষণাৎ অ্যাকশন সেনার
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করাও এই বৈঠকের একটি মূল অর্জন। দুই নেতা এ বিষয়ে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে দুই দেশের আস্থার স্তম্ভ হিসেবে অভিহিত করেন এবং প্রতিরক্ষা বাণিজ্য ও যৌথ উৎপাদন এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং আয়ুর্বেদকে বৈশ্বিক পর্যায়ে জনপ্রিয় করার বিষয়েও সমঝোতা হয়।
বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা বিষয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়, যেখানে ইউক্রেন ও গাজা সঙ্কট নিয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি সন্ত্রাসবাদকে মানবতার জন্য একটি বড় হুমকি আখ্যা দিয়ে এই বিরুদ্ধে ভারত ও জার্মানির যৌথ ভূমিকার উপর জোর দেন। তিনি জানান, বর্তমানে দুই হাজারেরও বেশি জার্মান কোম্পানি ভারতে সক্রিয়, যা অর্থনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা নির্দেশ করে।

আরও পড়ুন: হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে ব্যাঙ্ক থেকে সরকারি কাজ! ২০২৬ সালে আধার কার্ডে এই আপডেট করেছেন তো?
স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, স্বামীজি ভারত ও জার্মানির মধ্যে দার্শনিক সেতুবন্ধনে বিশ্বাস করতেন। চ্যান্সেলর শোলৎস তাঁর বক্তব্যে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং গুজরাট সফরের সময় গান্ধীজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করেন। এই সফরের মাধ্যমে ভারত-জার্মানি সম্পর্ক যে গভীরতর ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে, তা এই দিনের চুক্তিগুলি দ্বারাই স্পষ্ট হয়ে গেছে।












