বাংলাহান্ট ডেস্ক: আমেরিকার কূটনৈতিক কৌশলে ভারতই (India) এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ—এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন ভারতে নিযুক্ত হবু মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। সোমবার তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আমেরিকা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সিলিকন, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তিতে কোনও একটি দেশের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জোট গড়তে চায় ওয়াশিংটন। সেই উদ্দেশ্যেই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি জোটে ভারতের পূর্ণ সদস্যপদ নিশ্চিত করতে উদ্যোগী আমেরিকা।
গুরুত্বপূর্ণ জোটে ভারতকে (India) চাইছে আমেরিকা:
মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই জোটের নাম ‘প্যাক্স সিলিকা’। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এই জোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। বর্তমানে এই জোটে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, ইজ়রায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশগুলি। সেমিকন্ডাক্টর, চিপ নির্মাণ এবং এআই প্রযুক্তিতে সরবরাহ শৃঙ্খলকে নিরাপদ ও বহুমুখী করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য। এবার সেই জোটে ভারতকে পূর্ণ সময়ের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে আমেরিকা।
আরও পড়ুন: শুধু আমেরিকা নয়! এই দেশের প্রেসিডেন্টও ডোনাল্ড ট্রাম্প? নিজেই করলেন ঘোষণা
সোমবার মার্কিন দূতাবাসে কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সার্জিও গোর বলেন, “আগামী মাসেই ভারতকে এই জোটের পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হবে। এই ঘোষণা করতে পেরে আমি গর্বিত।” ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত গোর গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নেন। তার আগেই গত অক্টোবরে তিনি ভারতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বর্তমানে গোর দিল্লিতে অবস্থান করলেও এখনও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তাঁর পরিচয়পত্র জমা পড়েনি। কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কাছে নথিপত্র পেশের পরই কোনও রাষ্ট্রদূত জনসমক্ষে বক্তব্য রাখেন। তবে সেই প্রথার বাইরে গিয়েই গোর এই বার্তা দেন। এমন সময়েই তিনি এই মন্তব্য করলেন, যখন ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপড়েন চলছে। ভারতের উপর ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা, যা আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আরও পড়ুন:MBBS-এর পর UPSC-র প্রস্তুতি! ৩৫ র্যাঙ্ক করেও হননি IAS, চমকে দেবে শ্রেয়াকের কাহিনি
এই প্রেক্ষাপটেই গোর মোদী-ট্রাম্প বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সারা বিশ্ব ঘুরেছি। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর প্রকৃত বন্ধুত্ব রয়েছে। বন্ধুত্বে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা মিটেও যায়।” গোরের কথায়, বাণিজ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা, সন্ত্রাসদমন, জ্বালানি, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী আমেরিকা। তিনি ইঙ্গিত দেন, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যেই ট্রাম্পের ভারত সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে।












