বাংলাদেশে চিনের সামরিক ড্রোন নির্মাণ কারখানা স্থাপনের একটি প্রস্তাবিত চুক্তি ভারতের (India) নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ফাইল অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, যদিও এখনও সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, যা চুক্তির শর্তাবলী ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বাংলাদেশে চিনের ড্রোন কারখানা নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ ভারতের (India)
সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধবিমান সক্ষম এই ড্রোন কারখানা স্থাপনে চিন প্রায় ৬০৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এবং প্রযুক্তি ও নকশা সরবরাহ করবে। কারখানাটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলবে। তবে প্রকল্পটি কোথায় নির্মিত হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় এই কারখানা স্থাপিত হলে তা ভারতের জন্য একটি বড় কৌশলগত উদ্বেগ হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের প্রভাব বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: শুধু আমেরিকা নয়! এই দেশের প্রেসিডেন্টও ডোনাল্ড ট্রাম্প? নিজেই করলেন ঘোষণা
এই খবরের পাশাপাশি বাংলাদেশের লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁওয়ের দুটি পরিত্যক্ত সামরিক বিমান ঘাঁটি পুনরায় চালু করার বিষয়েও ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। এই ঘাঁটি দুটি ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এগুলো সক্রিয় হলে চীন সামরিক তৎপরতা বাড়াতে পারে। ইতিমধ্যেই ভারতের সামরিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে বলে খবর রয়েছে।
এই উন্নয়নগুলো বাংলাদেশের সামরিক পরিকাঠামোয় চিনের ক্রমবর্ধমান প্রবেশের ধারাবাহিকতায় দেখা যাচ্ছে। গত মাসেই বাংলাদেশ চিনা যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যেখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি তাদের যুদ্ধবিমান গত বছর ভারতের সাথে সংঘর্ষে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: MBBS-এর পর UPSC-র প্রস্তুতি! ৩৫ র্যাঙ্ক করেও হননি IAS, চমকে দেবে শ্রেয়াকের কাহিনি
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশে ড্রোন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা এবং সীমান্তবর্তী বিমানঘাঁটি পুনরায় চালুর আলোচনা ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনাকারীদের জন্য গভীর চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, পুরো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা গতিশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ভারতের পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।












