বয়কটের ডাক উঠলেও রমরমিয়ে চলছে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য! কী জানাল ইউনূস সরকার?

Published on:

Published on:

Despite call for a boycott, trade between India-Bangladesh is booming.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক উঠলেও বাণিজ্যে একমাত্র ভরসা ভারতই (India-Bangladesh)! সম্প্রতি আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়া ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। এর মধ্যেই বাংলাদেশ ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। এত টানাপোড়েনের মাঝেও ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করলেন বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক বা ক্রীড়া সংক্রান্ত উত্তেজনা সত্ত্বেও দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন স্বাভাবিক ছন্দেই চলছে।

বয়কটের ডাক দিয়েও বাণিজ্যে ভারতের (India-Bangladesh) ওপরই ভরসা বাংলাদেশের!

শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সেগুলির প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আইপিএল ইস্যু বা সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে দুই দেশের বাণিজ্যে কোনও বিরূপ প্রভাব পড়েনি বলেই তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, “আইপিএল ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায় কোনও নেতিবাচক প্রভাব আমরা দেখছি না। ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।” তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ উদার বাণিজ্যনীতিতে বিশ্বাস করে এবং যতক্ষণ না অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ততক্ষণ দেশভিত্তিক কোনও কঠোর দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না।

আরও পড়ুন: শুল্ক নিয়ে চলছে সংঘাত! এই আবহেই গুরুত্বপূর্ণ জোটে ভারতকে চাইছে আমেরিকা, ব্যাপারটা কী?

এই প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, দৈনন্দিন রাজনৈতিক বা সামাজিক ঘটনাবলি সাধারণত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলে না। তবে তিনি স্বীকার করেন, গত মে মাসে ভারত বিভিন্ন স্থলবন্দর বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কিছুটা কমেছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কোনও পাল্টা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, উত্তেজনার মাঝেও ঢাকা বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাইছে।

ভারতে পাট রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এর উত্তরে মাহবুবুর রহমান বলেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও জোগান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। অন্য কোনও দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে নয়। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণ মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যেই করা হয়।

Despite call for a boycott, trade between India-Bangladesh is booming.

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে সামরিক ড্রোন তৈরি করবে চিন! সম্পন্ন হল চুক্তিও, বিপদ বাড়বে ভারতের?

এর আগে হাদি-সমর্থকদের তরফে ইউনুস সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বন্ধ করা এবং ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ভারত ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি যে কার্যত অচল, তা সাম্প্রতিক ঘটনাতেই স্পষ্ট। কয়েকদিন আগেই ঘরোয়া বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে বাংলাদেশ। এরপর একাধিক দফায় ভারত থেকে ৫০ হাজার টন করে চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভারত থেকে ১.৮ লক্ষ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্তও নিয়েছে ঢাকা। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক নির্ভরতা যে অটুট, সেটাই আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।