বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া, অর্থাৎ এসআইআর (SIR) শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলায় রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। একদিকে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা ‘পরিষ্কার’ করার কথা বলছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের অভিযোগ এই প্রক্রিয়ার আড়ালে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা চলছে। কখনও মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি, কখনও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, আবার কখনও আদালতের দ্বারস্থ হওয়া। এসআইআর ঘিরে ধাপে ধাপে সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এসেছে।
রাজ্যে এসআইআর (SIR) নিয়ে অসংগতি
এর মধ্যে আবার নতুন করে এসআইআর নিয়ে অসংগতি খুঁজে পেল নির্বাচন কমিশন। বাংলায় চলতি এসআইআর (SIR) পর্বে ভোটারদের দেওয়া তথ্যে বিপুল অসঙ্গতির নজির সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সিইও দপ্তর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের তথ্যে নানা ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে। সবচেয়ে বেশি অসঙ্গতি মিলেছে বাবার নাম সংক্রান্ত তথ্যেই। কমিশনের হিসেব বলছে, প্রায় ৫০ লক্ষ ৯৩ হাজার ভোটারের বাবার নামের সঙ্গে ভোটার তালিকার তথ্যের মিল নেই। এক কথায়, এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের ক্ষেত্রে বাবার নাম ‘মিসম্যাচ’ হয়েছে।
এছাড়াও বয়স সংক্রান্ত তথ্যেও একাধিক অস্বাভাবিকতার কথা জানিয়েছে কমিশন। প্রায় ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ভোটারের সঙ্গে বাবা-মায়ের বয়সের ফারাক মাত্র ১৫ বছর। যা স্বাভাবিক নিয়মে কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছে কমিশন। অন্যদিকে, প্রায় ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের বয়সের সঙ্গে ৫০ বছরের বেশি ফারাক পাওয়া গিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় এমন প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে নিজের দাদু-দিদার বয়সের ফারাক মাত্র ৪০ বছর।
কমিশনের নজরে এসেছে আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য। কমিশন জানিয়েছে এমন অনেক ভোটার রয়েছেন, যাদের বয়স ইতিমধ্যেই ৪৫ বছরের বেশি, অথচ তাঁদের নাম ২০০২ সালের শেষ এসআইআর (SIR) ভোটার তালিকায় ছিল না। বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে যাচাই শুরু হয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রজেনি ম্যাপিং ঘিরে। কমিশনের দাবি, এমন ঘটনাও ধরা পড়েছে, যেখানে একজন ভোটারের নামের সঙ্গে ছয় জনের প্রজেনি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, নিজের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে ৬ জন আলাদা ব্যক্তির নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এই ধরনের অসঙ্গত তথ্য মিলিয়ে মোট সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজারে।

আরও পড়ুনঃ কুয়াশার জেরে রেল পরিষেবায় বড় ধাক্কা, বাতিল ২০ টিরও বেশি ট্রেন
এই পরিস্থিতিতে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় গতি আনতে রাজ্যে মাইক্রো অবজার্ভারের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, বর্তমানে বাংলায় প্রায় ৪ হাজার ৬০০ জন মাইক্রো অবজার্ভার রয়েছেন। খুব শীঘ্রই দিল্লি থেকে আরও ২ হাজার মাইক্রো অবজার্ভার রাজ্যে আসবেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ফলে এসআইআর পর্বে নজরদারি আরও কড়া হবে বলে মনে করছে কমিশন। প্রশিক্ষণের পর রাজ্যে মোট মাইক্রো অবজার্ভারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৬ হাজার ৬০০ জনে।












