বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা রোজভ্যালির বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নেওয়া পদক্ষেপে বাধা দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) বড়সড় ধাক্কা খেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার শীর্ষ আদালতে ইডির দায়ের করা স্পেশাল লিভ পিটিশন কার্যত খারিজ হয়ে যায়।
২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি নয়ছয়ের অভিযোগ
রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠের নেতৃত্বে যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি, রোজভ্যালির বাজেয়াপ্ত করা প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি নয়ছয়ের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্ট ফরেন্সিক অডিটের নির্দেশ দেয়।
সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিল ED
হাই কোর্টের সেই ফরেন্সিক অডিটকে অবৈধ ঘোষণা করা-সহ একাধিক আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিল ইডি। সোমবার বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ইডির আবেদন সন্তোষজনক নয়। ইডির হয়ে সওয়াল করেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু। আদালতের মনোভাব বুঝে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তবে বেঞ্চ আপত্তি জানালে রাজু মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি চান। আদালত সেই আবেদন প্রত্যাহারের সুযোগ দিয়ে মামলাটি খারিজ করে দেয়। শুনানিতে উপস্থিত আমানতকারীদের আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী ও শঙ্খদীপ চক্রবর্তীর বক্তব্য, এর ফলে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ দেওয়া ফরেন্সিক অডিটে আর কোনও আইনি বাধা রইল না।
রোজভ্যালির বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি এবং সেই সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বিচারপতি দিলীপ শেঠের নেতৃত্বাধীন কমিটির ভূমিকা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছে। হাই কোর্ট কেন্দ্রীয় সংস্থা ক্যাগ, রাজ্যের অর্থ দপ্তর, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক এবং সেবির মতো সংস্থাকে আর্থিক অডিটের দায়িত্ব দিতে চাইলেও তারা নানা কারণে সেই দায়িত্ব নেয়নি। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রকের অধীন সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (এসএফআইও) হাইকোর্টের নির্দেশ মতো ফরেন্সিক অডিটে রাজি হয়। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, প্রথমে তারা প্রাথমিক অনুসন্ধান করবে। সেই পর্যায়ে অনিয়মের প্রমাণ মিললে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামবে এসএফআইও।
এর পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টে ইডি আবেদন করেছিল, আমানতকারীদের তরফে ওঠা প্রশ্ন ও আর্জি খতিয়ে দেখতে রাজ্যের ওয়েবেল সংস্থার বদলে ভিন রাজ্যের একটি এআই–নির্ভর সংস্থাকে নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হোক। হাইকোর্ট সেই আবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চেয়েছিল, এই বিপুল খরচ কে বহন করবে। ইডি তার কোনও স্পষ্ট জবাব দিতে না পারায় সেই শুনানি মুলতুবি রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টেও (Supreme Court) ইডির সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ গৃহস্থের বাড়িতে চুরি! গুসকরায় গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা, অস্বস্তিতে শাসকশিবির
রোজভ্যালি মামলার বিভিন্ন পক্ষের আইনজীবীদের মতে, বিচারপতি শেঠের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে ইডির একজন প্রতিনিধি এবং রাজ্যের আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখার এক অফিসার রয়েছেন। ফলে কমিটির কার্যকলাপ থেকে ইডি নিজেদের সম্পূর্ণ আলাদা করে দেখাতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে ফরেন্সিক অডিট এড়াতে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ইডির সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।












