বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে শিক্ষক নিয়োগ (Teacher Recruitment) সুখবর আসছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এপ্রিল মাসে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শূন্যপদ ভরাতে উদ্যোগী তৃণমূল সরকার। সূত্রের খবর, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন শিক্ষক নিয়োগ স্কুল সার্ভিস কমিশনের (School Service Commission)। এসএসসির একাদশ এবং দ্বাদশ এর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার পর ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ। স্কুটিনি চলছে।
একাদশ-দ্বাদশের প্যানেল প্রকাশ জানুয়ারিতেই | School Service Commission
জানা যাচ্ছে, আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যেই শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা বা প্যানেল প্রকাশ করতে চলেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি। সেই মতো ধরে চললে বিধানসভা ভোটের আগেই নতুন শিক্ষকরা স্কুলে ক্লাস করাতে শুরু করে দেবেন। উল্লেখ্য, একাদশ-দ্বাদশ শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৬০৬ জন। এসএসসি সূত্রে খবর, মোট ১২ হাজার ৫১৪ টি শূন্যপদে নিয়োগ হতে চলেছে।
কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২১ জানুয়ারি একাদশ-দ্বাদশের মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে। তারপরই শুরু হয়ে যাবে কাউন্সেলিং। সেই মতো সব ঠিকঠাক চললে ফেব্রুয়ারির মাসের মধ্যেই স্কুলে স্কুলে পৌঁছে যাবেন নতুন শিক্ষকরা। সবমিলিয়ে ধীরে ধীরে এসএসসি জট খুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নিয়োগে ভয়ঙ্কর দুর্নীতির জেরে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট, এবং তারপর গতবছর ৩ এপ্রিল এসএসসি-র ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। গোটা প্যানেল বাতিলের নির্দেশে এক ধাক্কায় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের চাকরি চলে যায়।
বিপুল সংখ্যক চাকরি বাতিলের নির্দেশের পাশাপাশি এসএসসি-কে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রথমে আদালত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বললেও পরে সেই ডেডলাইন বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা সবেতন স্কুলে বহাল থাকবে বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট।

আরও পড়ুন: TET নেই এমন শিক্ষকের তালিকাই নেই! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বড় সমস্যায় রাজ্যের উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষা
উল্লেখ্য, একদিকে নিয়োগে দুর্নীতি অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ঘাটতি, সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে শিক্ষক সঙ্কটে ভুগছে রাজ্যের বহু স্কুল। এবার ভোটমুখী রাজ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে মনে করছে শিক্ষা মহল। যদিও বিরোধীদের দাবি, এ সবটাই ভোটকে লক্ষ্য করে। এত বছরে কেন শিক্ষক সংকটের দিকে ধ্যান দেওয়া হল না সেই প্রশ্ন তুলে সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিরোধী দলগুলি।












