মা-বাবার দায়িত্ব না নিলে শাস্তি! রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন থেকে ১০% কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখভাল না করলে এবার কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে তেলঙ্গনা সরকার। সরকারি কর্মীরা (Government Employees) যদি তাঁদের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্ব না নেন, তাহলে তাঁদের বেতনের অংশ কেটে সেই টাকা সরাসরি বাবা-মায়ের হাতে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য একাধিক নতুন সামাজিক প্রকল্পের ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এ. রেভন্থ রেড্ডি।

বাবা-মায়ের যত্ন না নিলে বেতন কাটার সিদ্ধান্ত (Government Employees)

সোমবার এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এ. রেভন্থ রেড্ডি জানান, যেসব সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী (Government Employees) তাঁদের বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখভাল করছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বেতনের ১০ শতাংশ কেটে সরাসরি বাবা-মায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে রাজ্য সরকার আইন আনতে চলেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও বাবা-মা যদি অভিযোগ করেন যে সন্তান তাঁদের দেখভাল করছে না, তাহলে প্রশাসন সেই অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখবে এবং নিশ্চিত করবে যে কাটা টাকা সরাসরি তাঁদের হাতে পৌঁছয়।

প্রতিবন্ধী ও বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য নতুন সহায়তা

এই অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য নতুন সহায়তামূলক প্রকল্পের ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পে আধুনিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হবে।

এর মধ্যে রয়েছে রেট্রোফিটেড মোটরচালিত যান, ব্যাটারি ট্রাইসাইকেল, ব্যাটারি হুইলচেয়ার, ল্যাপটপ, হিয়ারিং এইড এবং মোবাইল ফোন। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষরা পড়াশোনা, কাজকর্ম এবং সমাজে আত্মসম্মানের সঙ্গে বাঁচার সুযোগ পাবেন।

প্রবীণদের জন্য ‘প্রণাম’ ডে-কেয়ার সেন্টার

প্রবীণ নাগরিকদের দেখাশোনার জন্য রাজ্য সরকার ‘প্রণাম’ নামে নতুন ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি করছে। এই কেন্দ্রগুলিতে প্রবীণদের নিয়মিত দেখভাল এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হবে। এছাড়াও, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যে নতুন স্বাস্থ্যনীতি চালু করার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পুরসভায় ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতিনিধিত্ব

সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সমানাধিকারের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পুরসভা নির্বাচনে প্রতিটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে একটি করে কো-অপশন সদস্য পদ ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে তাঁরা সরাসরি পুরসভায় নিজেদের সমস্যা ও দাবি তুলে ধরতে পারবেন।

government employees(24)

আরও পড়ুনঃ SIR মামলায় নাটকীয় মুহূর্ত, বিহারের শুনানিতে উঠল বাংলার হিংসা, দ্রুত শুনানি নাকচ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট

বিশেষভাবে সক্ষম নবদম্পতিদের আর্থিক সহায়তা

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বিশেষভাবে সক্ষম নববিবাহিত দম্পতিদের জন্য ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি SC শ্রেণিবিন্যাস কার্যকর করে সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও তিনি বলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়পাল রেড্ডির কথা স্মরণ করেন, যিনি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সফলভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।