বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অতীতের তুলনায় এবার কলকাতা পৌরনিগমে অর্থসঙ্কট সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি এ কথা নিজে স্বীকার করে নিয়েছেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। বাজেট পেশের আগে সম্প্রতি তিনি পৌরনিগমের বিভিন্ন বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে রাজস্ব সংক্রান্ত বৈঠকে বসেন। সেখানেই স্পষ্ট হয় যে, কোষাগারের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক।
পৌরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্পত্তিকর বাবদ আদায় হয়েছিল ৯৫৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। ২০২৫ সালের একই সময়ে সেই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৯৯২ কোটি ৬১ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। অর্থাৎ এক বছরে মাত্র ৪০ কোটি টাকার মতো বাড়তি আদায় হয়েছে। এই সামান্য বৃদ্ধিতে বড় ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয় বলেই মত আধিকারিকদের।
রাজস্ব খাতে সঙ্কট, ঠিকাদারদের বকেয়া বিল
শুধু সম্পত্তিকর নয়, পার্কিং ফি, বিজ্ঞাপন খাত এবং বিল্ডিং বিভাগ থেকেও রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতি ভালো নয়। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব খাতেই আয় কমেছে।
এদিকে, একাধিক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলেও ২০২৩ সালের বিলের টাকা এখনও বকেয়া। ঠিকাদাররা নিয়মিত পৌরনিগমে এসে দাবি জানালেও টাকা মেলেনি। পৌরনিগমের একাংশের মতে, অপরিকল্পিত ব্যয় এবং আয়ের কথা না ভেবে একের পর এক প্রকল্প হাতে নেওয়াতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে উদ্বোধন বা শিলান্যাস করা প্রকল্পগুলির মধ্যে মাত্র ৪৮ শতাংশ প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলির ক্ষেত্রে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ বরাদ্দ হওয়ায় কার্যত থমকে রয়েছে সেগুলি। অর্থসঙ্কটের বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে বেতন ও পেনশনের বিপুল খরচ। জানা গিয়েছে, স্থায়ী, অস্থায়ী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বেতন ও পেনশন মিলিয়ে মাসে প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা খরচ হয়।
প্রায় ১৮ হাজার স্থায়ী কর্মীর জন্য মাসে ৭৮ কোটি টাকা এবং ২০ হাজার অস্থায়ী কর্মীর জন্য ১৫ কোটি টাকা খরচ হয়। ৩৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর পেনশন বাবদ খরচ হয় ৪০ কোটি টাকা। স্থায়ী কর্মীদের মোট বেতনের ৮৫ শতাংশ রাজ্য সরকার বহন করলেও বাকি ১৫ শতাংশ দিতে হয় পৌরনিগমকে। অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনের ৬০ শতাংশ দেয় পৌরনিগম। আর অস্থায়ী কর্মীদের বেতনের পুরো টাকাই দিতে হয় পুর কর্তৃপক্ষকে।
অর্থনৈতিক সঙ্কটের কথা স্বীকার করেন মেয়র ফিরহাদ (Firhad Hakim)
ইঞ্জিনিয়ার পদমর্যাদার আধিকারিক নিয়োগ হলেও গত সাড়ে চার বছর ধরে গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে একাধিক ক্ষেত্রে কাজের চাপ বাড়ছে। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বাজেট পেশ করা এবং ঘাটতি সামাল দেওয়া তৃণমূল পরিচালিত পৌরনিগমের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক সঙ্কটের কথা স্বীকার করে মেয়র ফিরহাদ (Firhad Hakim) বলেন, পৌরনিগম অর্থনৈতিক সঙ্কটে রয়েছে। কীভাবে কাজ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই বাজেট তৈরি করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ নতুন অর্থবর্ষে বড় চমক! মনরেগা নিয়ে সংঘাতের মাঝেই বাংলার জন্য ৬৮০ কোটি বরাদ্দ করল কেন্দ্র
মেয়রের (Firhad Hakim) এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ বলেন, “যখন উনি জানেন না, বাজেটটা কেমন করে করবেন, পৌরনিগম কেমন করে চলবে, তাহলে ছেড়ে দিন। গদি কামড়ে পড়ে রয়েছেন কেন? আমরা বলছি, ডবল ইঞ্জিন সরকার আসবে। পুরো বাংলা উন্নয়নের দিক থেকে বুলেট ট্রেনের গতিতে ছুটবে।” ভোটের মুখে অর্থসঙ্কটে জর্জরিত কলকাতা পৌরনিগমের এই বাজেট এখন নজরে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ নাগরিক সবারই।
















