যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় গণতন্ত্রের জয়গান! ভয় সরিয়ে রেখেই ভোটের লাইনে বিপুল মানুষ

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বারুদের গন্ধ আর মৃত্যুর বিভীষিকার মধ্যেই নতুন ইতিহাস রচনার পথে এগোচ্ছে গাজা (Gaza)। দীর্ঘদিনের সংঘাত, ধ্বংসস্তূপ আর মানবিক সংকটের পর এবার সেই গাজাতেই দেখা গেল গণতন্ত্রের এক অন্য ছবি। যে মানুষগুলি কয়েকদিন আগেও জীবন বাঁচাতে আশ্রয় খুঁজছিলেন, তারাই এখন দাঁড়িয়েছেন ভোটের লাইনে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাস্তবতাকে অতিক্রম করে এই অংশগ্রহণ এক নতুন আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় (Gaza) ভোট দিতে বিপুল মানুষের লাইন

শুধু গাজা নয়, পাশাপাশি ওয়েস্ট ব্যাঙ্কেও শুরু হয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। প্রায় দুই দশক পর নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতদিন ধরে এলাকাটির বড় অংশের উপর নিয়ন্ত্রণ ছিল হামাসের। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আরও পড়ুন:পাঞ্জাবে ভেঙে যাবে আপ সরকার? একসঙ্গে দল ছাড়তে পারেন ২৮ জন বিধায়ক

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটদানের ব্যাপারে যথেষ্ট উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রামাল্লা সহ একাধিক জায়গায় সকাল থেকেই লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। অনেকেই তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই ভোটকেন্দ্রে এসেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। মানুষের এই অংশগ্রহণই প্রমাণ করছে যে তারা শান্তি ও উন্নয়নের পথ খুঁজছে।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনও কঠিন। গাজার বেশিরভাগ অংশই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সব জায়গায় ভোটগ্রহণ সম্ভব হয়নি। তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত দেইর আল-বালাহ এলাকায় সীমিত পরিসরে ভোট হচ্ছে, যেখানে প্রায় ৭০ হাজার ভোটার রয়েছেন। অন্যদিকে ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে প্রায় ১০ লক্ষ ভোটার এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন, যা এই নির্বাচনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

Massive queues of people to cast votes in war-torn Gaza.

আরও পড়ুন: ‘ভারত দেশ নয়, বরং একটি সভ্যতা’, আমেরিকায় IIT ২০২৬ গ্লোবাল কনফারেন্সে মন্তব্য সদগুরুর

নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই ভোটে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করছে যে প্যালেস্টাইনের মানুষ দীর্ঘ সংঘাতের অবসান চায়। তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়তে আগ্রহী। যুদ্ধের ক্ষত এখনও তাজা থাকলেও, ব্যালটের মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে গাজার (Gaza) এগিয়ে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।