বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজ ফের একবার অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং পরিশ্রম করে সফলতা (Success Story) অর্জনের একটি কাহিনি বলব। বারবার ব্যর্থতা, সীমাহীন কর্মব্যস্ততা এবং সুযোগ ফুরিয়ে যাওয়ার হতাশা, এই সব বাধা পেরিয়েই ২০২৫ সালের UPSC ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস (IFS) পরীক্ষায় সর্বভারতীয় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করলেন ঝাড়খণ্ডের অংশুমান কুমার সিং। ভারতীয় কোস্ট গার্ডের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট হিসেবে দীর্ঘ ১০ বছরের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি যে অধ্যবসায় ও মানসিক শক্তির পরিচয় দিয়েছেন, তা ইতিমধ্যেই বহু পরীক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। ঝুমরি তিলাইয়ার এই যুবক দেখিয়ে দিলেন, শেষ সুযোগও কখনও কখনও জীবনের সেরা সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
অংশুমান কুমার সিংয়ের অসাধারণ সফলতার কাহিনি (Success Story)
২০১৬ সালে প্রথমবার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন অংশুমান। কিন্তু দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিকের পক্ষে নিয়মিত পড়াশোনার সময় বের করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। কখনও টানা ডিউটি, কখনও দূরবর্তী পোস্টিংয়ের কারণে বহুবার প্রিলিমস পরীক্ষাই দেওয়া হয়ে ওঠেনি। আবার কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষায় বসেও সাফল্য আসেনি। তবুও তিনি থেমে যাননি। দিনের শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়েও বই আর নোটস ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। ধীরে ধীরে নিজের প্রস্তুতিকে আরও ধারালো করতে শুরু করেন তিনি।
আরও পড়ুন:শিক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত! এবার বাংলায় চালু হচ্ছে পিএমশ্রী প্রকল্প? জানুন বিস্তারে
অংশুমানের জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ২০২৪ সালে। প্রথমবার তিনি UPSC সিভিল সার্ভিসের মেইনস পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন। আশেপাশের সবাই ভেবেছিলেন, এবার হয়তো স্বপ্নপূরণ হবেই। কিন্তু চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর তালিকায় নাম না থাকায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার থেকেও বড় আঘাত ছিল, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য তাঁর সমস্ত অ্যাটেম্পট শেষ হয়ে যাওয়া। ঠিক সেই সময় তিনি জানতে পারেন, ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস পরীক্ষার সুযোগ এখনও বাকি রয়েছে। বয়সের শেষ সীমায় দাঁড়িয়ে আর একবার ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই আজ তাঁকে দেশসেরাদের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।
প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অংশুমানের কৌশল ছিল একেবারেই আলাদা। তিনি কখনও অজস্র বইয়ের পিছনে ছোটেননি। বরং সীমিত রিসোর্স বারবার রিভিশন করাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন জিওলজি এবং এগ্রিকালচার। কাজের ফাঁকে নিজের হাতে নোটস তৈরি করতেন এবং পুরনো বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করতেন। তাঁর মতে, তথ্য মুখস্থ করার চেয়ে বিষয়টি গভীরভাবে বোঝা বেশি জরুরি। এই পদ্ধতিই তাঁকে টেকনিক্যাল উত্তরে নির্ভুলতা এনে দেয় এবং অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখে।

আরও পড়ুন:ওয়েটিং লিস্ট থেকে এসিতে ভ্রমণের সুযোগ, ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ে এই অপশন বাছলেই নিশ্চিন্ত
এই সাফল্যের (Success Story) পিছনে পরিবারের অবদানও কম নয়। অংশুমানের বাবা বিনয় কুমার সিং এখন আর বেঁচে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ আজও ছেলেকে পথ দেখায়। মা সুনীতা দেবী প্রতিটি ব্যর্থতার মুহূর্তে ছেলের পাশে থেকেছেন। স্কুলজীবন থেকেই মেধাবী অংশুমান জেলা টপার ছিলেন এবং পরে দিল্লির রামজাস কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ইন্টারভিউ বোর্ডে যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোস্ট গার্ডের কঠোর শৃঙ্খলা বন বিভাগের কাজে প্রভাব ফেলবে কি না, তখন তিনি বলেছিলেন, বনাঞ্চলের আদিবাসী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করতে গেলে কড়াকড়ির চেয়ে সহানুভূতি অনেক বেশি প্রয়োজন। তাঁর এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই শেষ পর্যন্ত তাঁকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।













