অন্যদের কাছে যা ‘আবর্জনা’, তা দিয়েই ব্যবসা শুরু কলেজ ড্রপআউটের! এখন মিলছে ১ কোটির টার্নওভার

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা ওহান্ট ডেস্ক: হায়দ্রাবাদের তরুণ উদ্যোক্তা অভিষেক আগরওয়াল প্রমাণ করে দিলেন, সমাজের চোখে ‘ছোট’ বলে মনে হওয়া কাজও একদিন বড় সাফল্যের (Success Story) রাস্তা খুলে দিতে পারে। ‘গুডি ব্যাগ’ নামে তাঁর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টার্টআপ আজ শুধু পরিবেশ রক্ষার কাজই করছে না, পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে পুরস্কৃতও করছে। কলেজ থেকে ঝরে পড়া এই যুবক একসময় বহু কোটির লজিস্টিকস ব্যবসা সামলাতেন। কিন্তু সেই জীবন ছেড়ে ২০২২ সালে সম্পূর্ণ অন্য পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রথমদিকে অনেকেই তাঁকে ‘আবর্জনা সংগ্রাহক’ বলে উপহাস করেছিলেন। তবে আজ তাঁর উদ্যোগ বছরে প্রায় ১ কোটি টাকার টার্নওভার তৈরি করছে।

অভিষেক আগারওয়ালের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

অভিষেকের জন্ম হায়দ্রাবাদের এক মারোয়ারি ব্যবসায়ী পরিবারে। ছোট থেকেই তিনি গতানুগতিক ব্যবসার গণ্ডির বাইরে কিছু করতে চাইতেন। কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময়ই তিনি বুঝতে পারেন যে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা তাঁর চিন্তাভাবনার সঙ্গে মানানসই নয়। ২০০৮ সালে কলেজ ছেড়ে দিয়ে তিনি প্রথমে একটি টিভিএস ডিলারশিপের দায়িত্ব নেন। পরে ২০১১ সালে শুরু করেন নিজের লজিস্টিকস সংস্থা ‘রাঘব রোডলাইনস’। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ৭৫টি ট্রাক নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহণের ব্যবসা চালান তিনি। বছরে ৩-৪ কোটি টাকার ব্যবসাও করতেন। কিন্তু লাগাতার ভ্রমণ এবং পারিবারিক চাপের কারণে ২০২৩ সালে সেই সফল ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন:অনুমতি দিলেন রাষ্ট্রপতি! সুপ্রিম কোর্টে বাড়ছে বিচারপতির সংখ্যা, জারি বিজ্ঞপ্তি

কোভিড পরবর্তী সময়ে মানুষের জীবনযাত্রায় দ্রুত বদল আসে। অনলাইন ডেলিভারি ও কুইক-কমার্সের প্রসারে প্রতিটি বাড়িতে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং বর্জ্যের স্তূপ জমতে শুরু করে। অভিষেক বুঝতে পারেন, কর্পোরেট বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সংস্থা থাকলেও সাধারণ পরিবারের শুকনো বর্জ্য সংগ্রহের কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। সেই চিন্তা থেকেই ২০২২ সালে নিজের আবাসনের ২০০টি ভিলাকে নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন ‘গুডি ব্যাগ’। প্রথমদিকে সাড়া মেলেনি। পরে তিনি বুঝতে পারেন, মানুষকে বর্জ্য পৃথকীকরণে উৎসাহ দিতে হলে সরাসরি লাভের ব্যবস্থা করতে হবে।

সেখান থেকেই তৈরি হয় অভিনব ‘ওয়েস্ট টু রিওয়ার্ড’ মডেল। ‘গুডি ব্যাগ’ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকেরা বাড়ি থেকে শুকনো বর্জ্য সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করেন। সংস্থার কর্মীরা ইলেকট্রিক অটো নিয়ে গিয়ে সেই বর্জ্য সংগ্রহ করেন এবং ওজন অনুযায়ী গ্রাহকদের পয়েন্ট দেন। দুধের প্যাকেট, কার্ডবোর্ড, শ্যাম্পুর বোতল, ই-ওয়েস্টের মতো সামগ্রী জমা দিলে প্রতি কেজিতে ৩ টাকা সমমূল্যের পয়েন্ট মেলে। সেই পয়েন্ট ব্যবহার করে বিনামূল্যে ডাল, জৈব খাদ্যসামগ্রী কিংবা সরাসরি নগদ অর্থও পাওয়া যায়। বর্তমানে হায়দ্রাবাদের ৩০ হাজারেরও বেশি পরিবার এই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত।

Abhishek Agarwal's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন:সাতটি হাইওয়ের দায়িত্ব সামলাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা, বড় পদক্ষেপ নবান্নের

শুরুর পথে বাধাও ছিল অসংখ্য। পরিবার থেকে সমাজ, অনেকেই তাঁর সিদ্ধান্তকে ব্যর্থতা বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু নিজের সঞ্চয় থেকে ৪-৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি গুদাম ভাড়া নেন এবং পুনর্ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়া নিজে শিখে নেন। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার কেজি শুকনো বর্জ্য সংগ্রহ করছে তাঁর সংস্থা। ইতিমধ্যেই ১,৫০০ টনের বেশি বর্জ্য ভাগাড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। প্রায় ৭ হাজার গাছ সংরক্ষণেও সাহায্য করেছে এই উদ্যোগ। হায়দ্রাবাদে একাধিক রিসাইক্লিং পার্টনারের সঙ্গে কাজ করে এখন প্রতি মাসে ৭-৮ লক্ষ টাকা আয় করছে ‘গুডি ব্যাগ’। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য শহরেও এই মডেল ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অভিষেকের (Success Story)।