বাংলাহান্ট ডেস্ক: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ali Khamenei)। সেই ঘটনার ১২৬ দিন পর শুক্রবার তেহরানে তাঁর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করেছে ইরান সরকার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ যেমন সেখানে ভিড় জমিয়েছেন, তেমনই বিশ্বের একাধিক দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত হয়েছেন প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। এই শোকানুষ্ঠানকে ঘিরে তেহরানে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন ইরানের রাজধানীর দিকে, কারণ এই অনুষ্ঠান শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকসভাই নয়, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের আমন্ত্রণে খামেনেইকে (Ali Khamenei) শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ভারতের প্রতিনিধি দল
ভারতের পক্ষ থেকেও উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ আতা হাসনাইন। শুক্রবার তাঁরা তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই বিশাল কমপ্লেক্সের প্রধান প্রার্থনাকক্ষে খামেনেইর মরদেহের কফিন রাখা হয়েছে, যাতে বিদেশি প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট অতিথিরা শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। ভারতের উপস্থিতিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সম্মানের প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে নয়াদিল্লি এই অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের মত (Ali Khamenei)।
আরও পড়ুন:শিক্ষায় ডিজিটাল বিপ্লব! চর্চায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান স্টুডেন্ট আইডি’, জানুন APAAR-ABC-এর সুবিধা
শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরাই নন, ইরানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়েও একটি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিবর্তে সেখানে গিয়েছেন প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ। এছাড়া উপস্থিত রয়েছেন কংগ্রেসের আইটি সেলের প্রধান পবন খেরা, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, জম্মু ও কাশ্মীরের পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি এবং আঞ্জুমান-ই-শারী শিয়ানের সভাপতি আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আল সাফাভি-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধিদের এক মঞ্চে দেখা যাওয়ায় এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারতের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি সমবেদনা এবং কূটনৈতিক সৌজন্যের বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে।
তেহরানে রওনা হওয়ার আগে নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মেহবুবা মুফতি বলেন, এই আমন্ত্রণ পাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। তাঁর কথায়, জীবনে একবারই এমন সুযোগ আসে এবং তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ইরান সরকারও এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথিদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও প্রোটোকলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে সংঘটিত সেই সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটে এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিক থেকেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ali Khamenei) দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। তাঁর মৃত্যু শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। সেই কারণেই তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ভারতও এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে একদিকে যেমন কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের পক্ষেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন এই শোকানুষ্ঠানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেও।













