‘ককরোচ’দের আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া সুপ্রিম কোর্ট, কী বললেন প্রধান বিচারপতি?

Published on:

Published on:

Supreme Court strict on police role in CJP Protest
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ককরোচ জনতা পার্টির (CJP Protest) আন্দোলনে পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগে এবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) কড়া অবস্থান। শুধু ঘটনার তদন্তই নয়, আন্দোলন মোকাবিলায় সারা দেশের জন্য অভিন্ন নীতি তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও জানাল শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্র এবং একাধিক রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আপাতত কোনও ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ নিয়ে পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)

এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই দেখা হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “যাঁরা নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার করেছে, আইন বিচার করবে। এই ঘটনার স্বাধীন, নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন। দায়বদ্ধতা নির্ধারণ না করা হলে তদন্ত অর্থহীন।” এই মন্তব্যের পাশাপাশি পুলিশি ভূমিকার নিরপেক্ষ তদন্তে একটি কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট সাতটি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে আদালত। পশ্চিমবঙ্গ সহ দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরল, বিহার, অসম ও উত্তর প্রদেশকেও রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলার সূত্রপাত ককরোচ জনতা পার্টির ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে মিছিল শুরু হলে পুলিশের তরফে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া এবং লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা এই মামলাটি দায়ের করেন।

সোমবারের শুনানিতেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছিল, “সংবিধানে শান্তিপূর্ণভাবে, আইন মেনে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করার অধিকার সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই যতক্ষণ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ শুধু আন্দোলন বলে লাঠিচার্জ করা যায় না।”

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এদিন বলেন, “গণতন্ত্রে আন্দোলন স্বাভাবিক ঘটনা। আন্দোলন ও পুলিশি পদক্ষেপ সংক্রান্ত একটি সর্বজনীন প্রোটোকল তৈরি হয়ে গেলে, যাঁরাই অতিসক্রিয়তা বা অন্যায় করেছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন এবং অত্যাচার চালিয়েছেন, তাঁদের সকলকেই আইনের আওতায় আনতে সুবিধা হবে।”

কেন্দ্র এবং দিল্লি সরকারের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি বলেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে যদি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়ে থাকে, তাহলে কেন্দ্র বিষয়টিকে কোনওভাবেই হালকাভাবে দেখছে না। তাঁর বক্তব্য, “যদি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে ঘটনায় ২৫০ জন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। সত্য সামনে আনতে নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার। একইসঙ্গে বাহিনীর মনোবলও ভেঙে দেওয়া উচিত নয়।”

তুষার মেহতা আদালতে আরও দাবি করেন,আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সমাজবিরোধী কিছু ব্যক্তি ভিড়ে মিশে গিয়েছিল। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, “শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সমাজবিরোধীরা ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যা ঘটেছে, তা শুধুমাত্র ছাত্রদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়তে পারে।” প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, এই অভিযোগগুলিও পৃথকভাবে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

Supreme Court strict on police role in CJP Protest
আরও পড়ুন : ৩০০ টাকা করে জমিয়েই মিলবে ১৫ লাখ! পোস্ট অফিসের এই স্কিমে বাম্পার রিটার্ন, হিসাব বুঝুন

শীর্ষ আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, কোনও ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে আপাতত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে পারবে পুলিশ। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতের তদন্তের স্বার্থে সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন ক্যামেরার ভিডিও, বডি-ক্যামের রেকর্ডিং, অন্যান্য ভিজ্যুয়াল এবং ওয়্যারলেস যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর দেশের।