‘অন্য কোন মোটিভ নিয়ে অনুমতি দেয়নি পুলিশ’, মসজিদের মাইক ইস্যুতে মিছিলে হাইকোর্টের সায়

Published on:

Published on:

Calcutta High Court allows procession over mosque microphone issue
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : মসজিদের মাইক বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে মিছিলের অনুমতি সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের। সোমবার রাজাবাজার থেকে মৌলালি পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা, সময়সীমা এবং মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক শর্তও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

মসজিদের মাইক বন্ধ মিছিলে মামলায় হাইকোর্ট (Calcutta High Court)

ধর্মস্থান থেকে মাইক খুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১১ অগস্ট মিছিল করার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছিল জমিয়ত-ই-উলেমা। সোমবার সকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বিষয়টি উল্লেখ করেন সংগঠনের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। শুনানির পর হাইকোর্ট জানিয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মিছিল করা যাবে। তবে শর্ত অনুযায়ী, মিছিলে সর্বোচ্চ ৭৫০ জন অংশ নিতে পারবেন। সকাল সাড়ে ১১টার পর মিছিল শুরু করতে হবে এবং এক ঘণ্টার মধ্যেই তা শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মিছিলে কোনও মাইক ব্যবহার করা যাবে না। রাজাবাজার থেকে মৌলালি পর্যন্ত নির্ধারিত রুটেই মিছিল করতে হবে। মিছিলের অনুমতি দিতে পুলিশের দেরি নিয়েই এদিন অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। দেরিতে কেন সিদ্ধান্ত জানানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, আগে থেকেই সংগঠনকে সিদ্ধান্ত জানানো যেত। পুলিশকে ভর্ৎসনা করে বিচারপতি বলেন,”এটা অন্য কোনও মোটিভ নিয়েই অনুমতি দেয়নি পুলিশ।”

আগের একটি মিছিলের প্রসঙ্গও শুনানিতে উঠে আসে। সেই মিছিলে বিশৃঙ্খল জনতার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আদালত অনুমতি দেয়নি বলে জানান বিচারপতি। যদিও রাজ্যের তরফে অবশ্য মিছিলের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যুক্তি দেওয়া হয়। রাজ্যের আইনজীবী এজি সুরজিত মিত্র আদালতে জানান,”কিছু তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। আমরা সপ্তাহের মাঝে এই মিছিলের অনুমতি দিতে পারি না। ২ হাজারের বদলে বড় জোর ৩০০ জন থাকতে পারে মিছিলে। গড়িয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে এস সি মল্লিক রোড ইএম বাইপাস থেকে মিছিল হতে পারে।”

রাজ্যের এই বক্তব্যের পাল্টা যুক্তিও দেন মামলাকারীর আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, মিছিলের অনুমতি না দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ পুলিশ জানাতে পারত। মাইক বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য শুধু এই মামলাই নয়, আরও একটি মামলা হয়েছে হাইকোর্টে। উল্লেখ্য, মাইক খোলার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাইক ব্যবহারের বিধিনিষেধ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নতুন কোনও আইন তৈরি করা হয়নি। বরং আগে থেকেই থাকা আইনই কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৪২০০টি মসজিদ এবং ১০৯৬টি মন্দির থেকে মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে।

High Court allows procession over mosque microphone issue

আরও পড়ুন : মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই অ্যাকশন, RG Kar মামলায় নতুন FIR দায়ের

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী,”২০২০ সালের হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল। ধর্মীয় স্থান মানে তো মন্দির-মসজিদ সব হতে পারে।” ফলে ধর্মস্থান থেকে মাইক সরানোকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আইনি প্রশ্নও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।