বাংলা হান্ট ডেস্ক : জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে আপাতত গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে মুক্ত থাকছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায় (Sumit Roy)। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে তাঁর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বহাল রাখা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত সুমিতের বিরুদ্ধে এই সুরক্ষা কার্যকর থাকবে। একইসঙ্গে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে।
সুমিতকে (Sumit Roy) কী বলল সুপ্রিমকোর্ট?
এদিন প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই মামলা উঠলে, রাজ্যের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সুমিত তদন্তকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন না। হাজিরা দিলেও জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তে সহায়তা করছেন না তিনি। তাই তদন্তের স্বার্থে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করেন মেহতা।
শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও আদালতকে অবহিত করেন সলিসিটর জেনারেল। তিনি জানান, তদন্তকারীদের হাতে যে নথি এসেছে, তা আদালতের সামনে পেশ করতে রাজ্য প্রস্তুত। তবে তদন্তের কাজ এখনও শেষ হয়নি এবং আরও বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান মেহতা।
এরপরই সুমিতের আইনজীবীর দাবি, তদন্ত থেকে দূরে সরে থাকার কোনও প্রশ্নই নেই। গত ৮ অগস্ট থেকে নিয়মিত তদন্তকারীদের সামনে হাজির হচ্ছেন সুমিত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপস্থিত থাকছেন বলে আদালতে জানানো হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই বাধ্যতামূলক নয় বলেও সওয়াল করেন তাঁর আইনজীবী। সংবিধান তাঁকে নীরব থাকার অধিকার দিয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সেই প্রসঙ্গেই বিচারপতি বাগচী সাংবিধানিক অধিকার ও তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতা—দুই বিষয়ই স্পষ্ট করে দেন। তিনি বলেন, “সংবিধান একজন ব্যক্তিকে নীরব থাকার অধিকার দিয়েছে। আবার সংবিধান তদন্তকারী সংস্থাকেও গ্রেফতার করার অধিকার দিয়েছে। এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।”
প্রসঙ্গত, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি নিয়ে ওঠা অভিযোগ থেকেই এই মামলার সূত্রপাত। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সরকারি জমি বেআইনিভাবে দখল করে পরে তা বিক্রি করার জন্য জাল কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। এই কারবারে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সামনে আসে। তদন্তকারীদের দাবি, এই পুরো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সুমিতের যোগ ছিল এবং তাঁর সম্মতিতেই ওই কাজ চলত।

আরও পড়ুন : সেপ্টেম্বর থেকে আরও আগে ঢুকবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা! তারিখ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
আপাতত গ্রেফতারির হাত থেকে স্বস্তি পেলেও তদন্তের চাপ পুরোপুরি কাটছে না সুমিত রায়ের। রাজ্যকে তদন্তের রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে জমা দিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই রিপোর্টে কী তথ্য উঠে আসে এবং পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের। মামলার পরবর্তী শুনানিই ঠিক করবে সুমিতের এই আইনি সুরক্ষা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।













