৫০,০০০ টাকায় শুরু করে এখন মাসে ২.৫ কোটির আয়! ব্যবসার মাধ্যমেই তাক লাগালেন সালোনি-বিদুষী

Published on:

Published on:

Success Story of Saloni and Vidushi will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মুম্বইয়ের (Mumbai) সালোনি শাহ এবং সুরাটের (Surat) বিদুষী জৈনের উদ্যোগ এখন দেশের কৃত্রিম বা ইমিটেশন গয়নার বাজারে সফলভাবে (Success Story) এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। একসময় যে বাজার মূলত অসংগঠিত এবং নানা ধরনের পরিষেবা ও গুণগত সমস্যায় ভরা ছিল, সেই জায়গাতেই নতুন সম্ভাবনা দেখেছিলেন সালোনি। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর উদ্যোগ ‘আতরঙ্গি’। আজ সেই ছোট্ট ব্যবসাই ওমনিচ্যানেল মডেলে প্রতি মাসে প্রায় ২.৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এই ব্র্যান্ডের বার্ষিক বৃদ্ধির হারও ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে। আগামী দিনে ৩৫ কোটি টাকার টার্নওভার ছোঁয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন দুই প্রতিষ্ঠাতা।

সালোনি ও বিদুষীর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

‘আতরঙ্গি’র শুরুটা অবশ্য কোনও বড় বিনিয়োগ বা বিশাল পরিকল্পনা দিয়ে হয়নি। ২০১৬ সালে নিজের বিয়ের কেনাকাটার জন্য চেন্নাইয়ে গিয়েছিলেন সালোনি। সেখানেই কৃত্রিম গয়না কেনার সময় তিনি পরিষেবার মান, পণ্যের গুণমান এবং স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর মনে হয়, এই বাজারে গ্রাহকদের আরও ভালো পরিষেবা দেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। নিজের সঞ্চয় থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ডিসেম্বরেই ব্যবসা শুরু করেন তিনি। শুরুতে তাঁর সংগ্রহে ছিল মাত্র ১৫ থেকে ২০টি প্রাকৃতিক পাথরের কানের দুল। প্রথম দিকে একাই প্রতিদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা করে কাজ করতেন সালোনি। ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকলে ছয় মাসের মধ্যেই বন্ধু বিদুষী জৈন তাঁর সঙ্গে সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে যোগ দেন (Success Story)।

আরও পড়ুন: ওষুধের কারখানা থেকে দোকান; বাদ নেই কিছুই! বাতিল ৮৮০ লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে তুকারাম মুন্ধের দাপট

দুই বান্ধবী এরপর ধীরে ধীরে ব্যবসাটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেন। মুম্বইয়ের বিভিন্ন আবাসন সংস্থায় ছোট পরিসরে ঘরোয়া প্রদর্শনী এবং পপ-আপ আয়োজন করেই শুরু হয়েছিল তাঁদের অফলাইন যাত্রা। পরে সুরাটের একটি লাইফস্টাইল প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে বড় সাড়া পান তাঁরা। মাত্র দেড় দিনের মধ্যেই প্রদর্শনীর সমস্ত গয়না বিক্রি হয়ে যায়। এরপর ডিজিটাল মাধ্যমে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে ইনস্টাগ্রামকে গুরুত্ব দেন তাঁরা। গয়নার ছবিতে অতিরিক্ত এডিটিং না করে আসল পণ্যকেই তুলে ধরতেন সালোনি ও বিদুষী। ফলে অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আস্থা তৈরি হয়। তবে বিয়ের গয়না কেনার আগে অনেক কনেই পণ্য হাতে নিয়ে বা পরে দেখে নিতে চাইতেন। সেই চাহিদা থেকেই তৈরি হয় ‘এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার’, যেখানে ট্রায়াল রুমের ব্যবস্থাও রয়েছে। বর্তমানে মুম্বই, চেন্নাই এবং সুরাতে এমন তিনটি বড় কেন্দ্র রয়েছে।

‘আতরঙ্গি’র ব্যবসায়িক মডেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘অ্যাফোর্ডেবল লাক্সারি’ বা সাধ্যের মধ্যে বিলাসবহুল গয়নার ধারণা। ৯৫০ টাকা থেকে শুরু হওয়া গয়নার মধ্যে রয়েছে পোলকি, কুন্দন, মুক্তো, মীনাকারি এবং উন্নত মানের আমেরিকান ডায়মন্ড বা AD জুয়েলারি। লেহেঙ্গা থেকে শাড়ি—বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানানসই করে গয়না বেছে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। বর্তমানে সংস্থার মোট ৩২ জনের দল রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের দায়িত্ব শুধুমাত্র ভিডিও কলের মাধ্যমে গ্রাহকদের পরামর্শ দেওয়া এবং স্টাইলিংয়ে সাহায্য করা। এর ফলে অনলাইনে গয়না কেনার সময় মাপ, ডিজাইন বা সাজ নিয়ে ক্রেতাদের যে দ্বিধা থাকে, তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হচ্ছে।

Success Story of Saloni and Vidushi will amaze you.

আরও পড়ুন: আরও বাড়বে পরমাণু শক্তি! এবার সমুদ্রে লুকিয়ে থাকা ইউরেনিয়াম আহরণ করবে চিন

বর্তমানে প্রতি মাসে ‘আতরঙ্গি’র অনলাইন অর্ডারের সংখ্যা প্রায় ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০। মাসিক রাজস্ব প্রায় ২.৫ কোটি টাকা হলেও দুই প্রতিষ্ঠাতার লক্ষ্য এখানেই থেমে থাকা নয়। আগামী দিনে দিল্লিতে নতুন স্টোর খোলার পাশাপাশি পুরুষদের জন্য গ্রুমিং এবং জুয়েলারির আলাদা লাইন আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। দেশের বাজার আরও শক্তিশালী করার পর নজর রয়েছে বিদেশের দিকেও। দুবাইয়ে স্টোর খোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠাতার স্বপ্ন, ভারতীয় ইমিটেশন জুয়েলারিকে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন পরিচয় দেওয়া এবং একদিন দেশের প্রথম সত্যিকারের বিশ্বব্যাপী ভারতীয় ইমিটেশন জুয়েলারি ব্র্যান্ড হিসেবে ‘আতরঙ্গি’কে প্রতিষ্ঠিত করা। মাত্র ৫০ হাজার টাকার পুঁজি থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা তাই এখন বড় ব্যবসায়িক স্বপ্নের দিকে এগিয়ে চলেছে (Success Story)।