বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বরাবরই স্বাস্থ্য সম্পর্কে বেশ সচেতন গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে প্রাতঃভ্রমণে যান তিনি। এই সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও দেন। প্রতিদিনের মত এদিনও মর্নিং ওয়াকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের সময় দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই অবৈধ নির্মাণ থেকে পুজোর আগে ফুড লাইসেন্স বাতিল হওয়ার প্রসঙ্গে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিলেন দিলীপ ঘোষ।
পশ্চিমবঙ্গে অনিয়ন নতুন কিছু নয়! তবে নতুন সরকার সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের চেষ্টা করছে
পশ্চিম বাংলায় এটা নতুন কিছু নয় বহু বছর ধরে চলছে এরকম সব বিভাগে অনিয়ম নিজার মত করে বেড়াচ্ছে। দুর্নীতি সরকারি অধিকারিক হোক বা নেতা সবাইকে সেট করা যায়। এই ধারণা হয়ে গেছিল। আর এটাই চলছিল। এখন সবে শুরু হয়েছে পরিবর্তন। নতুন সরকার সমস্ত ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের কাছে আমার আবেদন যে আপনারাও নিজের থেকে এগুলো ঠিকঠাক করুন।
এক তো প্রতিবাদ করুন। আর যারা এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন তারা নিজেদেরকে ধীরে ধীরে পাল্টান। আর তা না হলে সমাজে পরিবর্তন হবে না। কোথায় নিয়ে গেছি পশ্চিমবঙ্গকে আমরা দেখতে পাচ্ছি রোজ কিছু না কিছু ঘটনা আসছে। যেন হোটেল রেস্টোরা তো সবচেয়ে বেশি অবৈধ কাজ হয়। রাস্তার ধারে সরকারি জায়গার উপরে তৈরি হয়েছে, ইললিগাল কনস্ট্রাকশন কোন পারমিশন নেই, ফায়ার লাইসেন্স নেই। শুধু তাই নয়, যা কাজকর্ম ঘটে সেগুলো ঠিকঠাক নয়। এই নিয়ে কমপ্লেন বহু এসছে। কিন্তু কখনো সমাধানের চেষ্টা হয়নি বর্তমান সরকার খুব করা হাতে এগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুনঃ ৪০০০ পুলিশ ২০০ জনের দমকলবাহিনী, কৌশিকী অমাবস্যায় বিশাল আয়োজন তারাপীঠে
তারাপীঠ এবং কলকাতার নিউ মার্কেটের শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর পর দমকল বিভাগ একটা অভিযান চালায়। সেই অভিযানের মধ্যে কলকাতা পুরসভাও ছিল। ৯৬০ টা হোটেল বা গেস্ট হাউস তার মধ্যে ৯১৯ টার লাইসেন্স সাসপেন্ড হয়ে গেল। কারণ তারা কোন অগ্নিবিধি মানেনি এবং তারা সমস্ত বোর্ডারকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই হোটেলে রেখে দি? এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপবাবু জানান, খাওয়ার দাওয়ারের ব্যাপারটা এত বেশি আমরা যে মানে গুরুত্ব কম দিই। ফলেতে আমাদের পশ্চিম বাংলার লোকের স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার এটা একটা কারণ হসপিটাল তার স্বাস্থ্য খারাপ হলে তার ঠিক করারও জায়গা নেই হসপিটাল উঠে গেছে খুব দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি মধ্যে আমরা এগচ্ছিলাম। তো এই যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে কিছু লোকের কষ্ট হবে।
যারা এই অনিয়মটাকে নিয়ম বলে মনে করে কাজ করতেন তাদের পক্ষে সমস্যা হবে। আমিও সরকারকে একটা সাজেশন দিয়েছিলাম কেবিনেটে, যে একটা টাইম বেধে দেওয়া হোক। তার মধ্যে যারা যারা লাইসেন্স নিতে চান সমস্ত কাগজপত্র রেডি করে আসুন। কারণ তারা টাকা টাকা পয়সা খর্চা করেছেন এই রেস্টুরেন্ট হোটেল ইত্যাদিতে ইনভেস্ট করেছেন। হঠাৎ বন্ধ হলে তাদের অসুবিধা। আর পূজোর আগে যদি বন্ধ হয়ে যায় বহু বাইরের লোক আসেন এখানে পুজো দেখতে তারা থাকবেন কোথায়? তো দুটো একটা রাস্তা বার করুন যারা লিগাল হতে পারে ১১ মাসের মধ্যে তারা সমস্ত রেডি করে অ্যাপ্লাই করুন ডিপার্টমেন্ট দেবে।
ডিপার্টমেন্টের মধ্যেও গন্ডগোল আছে। ছ মাস আগে কাগজ জমা করেছে তারা লাইসেন্স দেন না, আমি মেদিনীপুরে দেখেছি এটা। এ সমস্ত কিছুকে ঠিকঠাক করতে হবে দুর্গাপূজাতে প্রভাব পড়বে। আর সবচেয়ে বড় কথা মানুষের স্বাস্থ্য, তার সঙ্গে কোনরকম সমজোতা হয় না। শুধু তো স্বাস্থ্য নয়, এখানে তো জীবন মৃত্যুর ব্যাপার।
যদি হোটেলে আগুন লাগে কিভাবে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘যারা হোটেল চালাচ্ছেন তাদেরকে তো সতর্ক থাকতে হবে। কলকাতাতে যে ঘটনা ঘটেছে, বা এই যে তারাপীঠের ঘটনা গত ১০ বছরের মধ্যে যে যেখানে পেরেছে হোটেল করে নিয়েছে। হোটেলের দেওয়ালের সঙ্গে দেওয়াল, আর যাওয়াতায়াতের রাস্তা নেই। অন্য কোন বিধি মানা হয়নি, এটা তো চলতে পারে না। সব জায়গায় টাকা পয়সার লেনদেন হয়েছে। এমনকি আমাদের দীঘা এবং পাশে যে নতুন জায়গায় গড়ে উঠেছে, মন্দারমণি সেখানেও কোন নিয়ম কানুন মানা হয়নি। পঞ্চায়েত এলাকায় পঞ্চায়েত টাকা নিয়েছে রাস্তা নেই। সমুদ্রের ভিতর দিয়ে যেতে হতো। আমি একবার গিয়ে দেখতে গেছিলাম। এগুলো তো চলতে পারে না। তো প্রাকৃতিক ব্যাপার আছে, সমুদ্র আছে, নদী আছে আর নিয়ম আছে। কোনটা কেউ মানছে না। এভাবে কতদিন আমরা থাকতে পারবো এখানে। তাহলে সিকিমের মতো, নেপালের মত ঘটনা এখানেও ঘটবে’। এছাড়া আর কি কি বললেন তিনি? দেখে নিন ভিডিওতে।













