বাংলা হান্ট ডেস্ক: সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা। সেইসঙ্গে
ইউটিউবের (YouTube) ক্রিয়েটর ইকোসিস্টেমও ভারতে দ্রুত একটি প্রধান অর্থনৈতিক সেক্টরে পরিণত হচ্ছে। ইউটিউবের ২০২৫ ইমপ্যাক্ট রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৫ সালের মধ্যে এই প্ল্যাটফর্মের ক্রিয়েটিভ ইকোসিস্টেম ভারতের (India) GDP (Gross Domestic Products)-তে ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি অবদান রেখেছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ইকোসিস্টেমটি ৯.৬ লক্ষেরও বেশি পূর্ণকালীন চাকরির সমতুল্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এই রিপোর্ট অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। রিপোর্ট অনুসারে, ইউটিউবের ইকোসিস্টেম শুধু কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরই উপকৃত করছে না, বরং সিনেমাটোগ্রাফার, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রোডাকশন প্রফেশনালসহ বিভিন্ন সৃজনশীল ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করছে।
ইউটিউবের (YouTube) মাধ্যমে ভারতের GDP-তে এল ১৮,০০০ কোটি:
অর্থনৈতিক যোগদান বেড়েছে: রিপোর্ট অনুসারে, গত বছরের তুলনায় ভারতের GDP-তে ইউটিউব ক্রিয়েটর ইকোসিস্টেমের অবদান বেড়েছে। গত বছর এই ইকোসিস্টেম অর্থনীতিতে ১৬,০০০ কোটি টাকারও বেশি অবদান রেখেছিল এবং ৯.৩ লক্ষেরও বেশি পূর্ণকালীন চাকরির সমতুল্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সাহায্য করে।

শহরাঞ্চলেও রয়েছে প্রভাব: জানিয়ে রাখি যে, ইউটিউবের মতে, প্ল্যাটফর্মটির অর্থনৈতিক প্রভাব এখন আর শুধু প্রধান মেট্রো শহরগুলিতেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং, দেশের নন-মেট্রো শহরগুলিতেও নতুন ক্রিয়েটিভ ক্লাস্টার গড়ে উঠছে। ওই শহরগুলিতে স্থানীয় প্রতিভারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি তাঁদের কাজ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র নতুন রেকর্ড! ভারত থেকে ১৩.২ বিলিয়ন ডলারের iPhone রফতানি করল Apple
৩ লক্ষেরও বেশি অ্যাপ্রেন্টিস সহায়তা পেয়েছেন: রিপোর্ট অনুসারে, গত এক বছরে ইউটিউবের মনিটাইজড ক্রিয়েটরদের ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে ৩ লক্ষেরও বেশি অ্যাপ্রেন্টিস সাহায্য পেয়েছেন। এটি ডিজিটাল সৃজনশীল অর্থনীতিতে যুবক-যুবতীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। উল্লেখ্য যে, ভারত ইউটিউবের বৃহত্তম বাজার হিসাবে বিবেচিত রয়েছে এই দেশে প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহারকারী সংখ্যা ৫০ কোটিরও বেশি। এটি ভারতকে বিশ্বব্যাপী ইউটিউবের জন্য একটি প্রধান বৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ভারতের ২০,০০০-এরও বেশি ইউটিউব চ্যানেল ১০ লক্ষ সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
আরও পড়ুন: নোয়েল টাটা কেন শেয়ার বাজারে টাটা সন্সের লিস্টিংয়ের বিরোধিতা করছেন? রয়েছে একাধিক কারণ
ভারতীয় কনটেন্ট বিদেশেও পৌঁছে যাচ্ছে: জানিয়ে রাখি যে, ভারতীয় ক্রিয়েটরদের নাগাল এখন আর শুধু দেশীয় দর্শকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইউটিউবের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় চ্যানেলগুলিতে তৈরি কনটেন্টের মোট ওয়াচ টাইমের ১৫ শতাংশেরও বেশি আসে দেশের বাইরের দর্শকদের কাছ থেকে। এটি ভারতীয় ক্রিকেটারদের তৈরি
কনটেন্টের ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী প্রসারকে প্রতিফলিত করে। এছাড়াও, ইউটিউব জানিয়েছে যে, গত এক বছরে ভারতের ২ লক্ষেরও বেশি চ্যানেল এই প্ল্যাটফর্মে প্রথমবারের মতো আয় করা শুরু করেছে। বার্ষিক ১০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি আয় করা চ্যানেলের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।আরও একটি বিষয় হল, উপার্জনকারী ৭৩ শতাংশ ক্রিয়েটর ইউটিউবকে তাদের আয়ের প্রধান উৎস হিসাবে উল্লেখ করেছেন।













