বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (Reliance Industries) প্রায় সবসময় থাকে খবরের শিরোনামে। এদিকে, বর্তমানে শেয়ার বাজার অধীর আগ্রহে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড তথা RIL-এর জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের (দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক) ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, এবার সংস্থার আর্থিক ফলাফল শক্তিশালী হবে। এদিকে, দেশীয় ব্রোকারেজ সংস্থা নুভামা রিসার্চও (Nuvama Research) রিলায়েন্সের আয়ে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। নুভামার মতে, সংস্থাটির কনসোলিডেটেড EBITDA গত বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩,৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। এর আগে, ব্রোকারেজ সংস্থাটি ১২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রত্যাশা করেছিল। পাশাপাশি, মুনাফা (PAT) ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০,৯০০ কোটি টাকায় পৌঁছবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এদিকে, এই দুর্দান্ত সাফল্যের প্রধান কারণ হল রিফাইনিং মার্জিনের উন্নতি।
রিলায়েন্সের (Reliance Industries) এই নতুন ব্যবসাই আনবে বিপুল মুনাফা:
রিফাইনিং উল্লেখযোগ্য গতি আনবে: জানিয়ে রাখি যে, নুভামার অনুমান অনুযায়ী রিলায়েন্সের সবচেয়ে বড় এবং তাৎক্ষণিক সুবিধা আসবে এর অয়েল-টু-কেমিক্যালস তথা O2C ব্যবসা থেকে। অনুমান করা হচ্ছে যে, এই বিভাগের EBITDA বার্ষিক ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০,৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। মূলত, গ্যাসঅয়েল এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর শক্তিশালী ক্র্যাক মার্জিন এবং সেইসঙ্গে মজুত থেকে প্রাপ্ত লাভের কারণে এই বৃদ্ধি ঘটবে। এছাড়াও, এছাড়াও, রিফাইনারি থ্রুপুট বৃদ্ধিও সংস্থার ফলাফলকে আরও উন্নত করবে। তাই বিনিয়োগকারীরা এই অংশটির ওপর বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছেন।

সোলার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের বিষয়ে বড় পরিকল্পনা: রিলায়েন্সের নিউ এনার্জি বিজনেস বেশ বৈচিত্র্যময়। যার মধ্যে ব্যাটারি থেকে শুরু করে ইলেক্ট্রোলাইজার, গ্রিন হাইড্রোজেন, সোলার ম্যানুফ্যাকচারিং এবং রিনুয়েবল পাওয়ার শামিল রয়েছে। রিলায়েন্স ইতিমধ্যেই ৬ গিগাওয়াট (GW) মডিউল সহ ২ গিগাওয়াট সেল উৎপাদনও চালু করেছে। সংস্থাটি বর্তমানে একটি ১০ গিগাওয়াটের ইন্টিগ্রেটেড সোলার ম্যানুফ্যাকচারিং ফেসিলিটি নিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এটিকে ২০ গিগাওয়াটে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নুভামার মতে, এই ১০ গিগাওয়াট প্ল্যান্টটি যদি ৭৫ শতাংশ ক্ষমতায়ও চলে, তবে তা সংস্থাটির মুনাফা প্রায় ৩,৪০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি সংস্থাটির সামগ্রিক মুনাফার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। যেখানে ২০২৭ অর্থবর্ষে এই সেক্টরে ৩০০ কোটি টাকার লোকসান হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, সেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সেক্টর ১০,৬০০ কোটি টাকার বিশাল মুনাফায় পরিণত হতে পারে। যা রিলায়েন্সের মোট মুনাফার ৮ শতাংশ হবে।
নজরে রয়েছে নিউ এনার্জি বিজনেস: উল্লেখ্য যে, রিলায়েন্সের নিউ এনার্জি বিজনেস এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এটি ভবিষ্যতে সংস্থার জন্য গেমচেঞ্জার হতে চলেছে। নুভামার অনুমান অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে এই সেগমেন্টে দ্রুত প্রসারিত হবে। এদিকে, ২০২৭ অর্থবর্ষে এই সেগমেন্টের EBITDA ১,৫০০ কোটি টাকা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যা ২০৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ২০,১০০ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। এমনটা হলে কম্পাউন্ড অ্যানুয়াল গ্রোথ রেট তথা CAGR-এ ১৩৭ শতাংশের বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। ততদিনে, শুধুমাত্র এই ব্যবসাটি থেকেই রিলায়েন্সের মোট EBITDA-এর প্রায় ৭ শতাংশ আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: অক্টোবরের শুরুতেই এল সুখবর! সেপ্টেম্বরে GST সংগ্রহে ১৪.৭ শতাংশের বৃদ্ধি, সবথেকে এগিয়ে কোন রাজ্য?
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ: সামগ্রিকভাবে এই ইতিবাচক সংকেত এবং ভবিষ্যৎ রোডম্যাপের পরিপ্রেক্ষিতে, নুভামা রিসার্চ রিলায়েন্সের শেয়ারের ওপর তাদের ‘বাই’ রেটিং বজায় রেখেছে। ব্রোকারেজ সংস্থাটি শেয়ারের জন্য ১,৭৬৬ টাকার একটি টার্গেট প্রাইসও নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে BSE-তে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ১,১৬৬ টাকা। ব্রোকারেজ সংস্থাটি মনে করে যে, নিউ এনার্জি বিজনেস প্রসারেরসসঙ্গে সঙ্গে সংস্থাটির ভ্যালুয়েশন রি-রেটিংয়ের যথেষ্ট সুযোগ তৈরি হবে। সামগ্রিকভাবে, স্বল্পমেয়াদে রিফাইনিং বিজনেস রিলায়েন্সের বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে নিউ এনার্জি বিজনেস সংস্থাটির জন্য আয়ের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী উৎস হিসাবে বিবেচিত হবে।













