বাংলা হান্ট ডেস্কঃ এবছর কলকাতা পুজোর অন্যতম আকর্ষণ ছিল চোরবাগান সর্বজনীন (Chorbagan Sarbojanin)। সপ্তমীর সন্ধ্যাতে বৃষ্টি সত্ত্বেও ব্যাপক ভিড় জমেছিল ঠাকুর দেখার জন্য। এরই মধ্যে মন্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট (Stampede) হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এছাড়া আহত ২৫ জন, যাদের চিকিৎসা চলছে সরকারি হাসপাতালে। ইতিমধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নিয়ে নিজের বক্তব্য রেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
চোরবাগান সর্বজনীন নিয়ে মুখ্য়মন্ত্রীর বক্তব্য
এদিন মধ্যরাত্রে মেডিকেল কলেজ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আঠারো জনের মৃত্যু আপাতত হয়েছে, একজন ক্রিটিক্যাল। পঁচিশ জনের চিকিৎসা চলছে। আমরা নিয়ম মেনে পোস্টমর্টেমের ব্যবস্থা করছি। এখন অব্দি নয়জন মৃতের পরিবার এসে পৌঁছেছে। যাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি।
আমরা ওখানে ঘটনার সময় সিসিটিভি, এআরএস, কলকাতা পুলিশ নিয়েছে। এবং সেখানে সিসিটিভিতে যারা ক্রাউড কন্ট্রোলের দায়িত্বে ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে, সিসিটিভিতে যাদের দেখা যাবে, যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, ব্যবস্থা আমরা নেব। এক্ষেত্রে যাদের চিহ্নিত করা হবে তাঁরা পুজো কমিটির লোক হতে পারে, স্বেচ্ছাসেবক হতে পারে, পুলিশের লোক হতে পারে, টেম্পোরারি হোমগার্ড হতে পারে অথবা প্রাইভেট সিকিউরিটি এজেন্সি হতে পারে। কাউকে ছাড়ার কোন প্রশ্ন নেই।
আরও পড়ুনঃ পড়ুয়াদের ফেরানো হবে অ্যাডমিশন ফি! এই কলেজগুলোকে বড় নির্দেশ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের
একইসাথে পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে শুভেন্দু বলেন, বিগত ২০২৫ সালে দুটো ইন্সিডেন্ট পুজোর সময় ঘটেছে। আমি কাউকে ব্লেম করছি না। রাজনৈতিক দোষারোপ করছি না। তেরো জন মারা গেছিলেন বৈদ্যুতিক শকে, জলে, বৃষ্টিতে। সেই সময়েও রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক প্রধানের ভূমিকা মানুষ দেখেছেন। দার্জিলিংয়ের হড়পা মানে শতাধিক মানুষ ভেসে চলে গেছিলেন। সেখানে আপনারা ভূমিকা দেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি তুলনা করছি না। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়াতে রাজনীতি করছেন সেই জন্য আপনাদের বলছি, পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটবেন না। আপনাদের উপর লোক থু থু ফেলবে। এখানে আমার পুরো মন্ত্রিসভাকে নিয়ে প্রতিটা মুহূর্ত নজর রাখছি। মুখ্যসচিব সহ, DGCP সহ, পুরো পুলিশ, সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে নিয়ে প্রত্যেকটাতে যা যা করার সম্ভব। মৃতদেরকে তো ফিরিয়ে দিতে পারব না। ঈশ্বর সে ক্ষমতা দেয়নি। বাকি প্রত্যেকটা জিনিসে আমরা করেছি। কনক্লুশন পার্টে আসছি।
বর্তমানে মেডিকেল কলেজেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে তাঁর সাথে চিফ সেক্রেটারি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, MLAরা আছেন, CPDG সহ লোকাল MLAও আছেন। আমাদের প্রথম হচ্ছে আমরা কলকাতা হাইকোর্টের চিফ জাস্টিসকে লিখব।সিটিং জাজকে দিয়ে আমরা সিট বানিয়ে দেব, যাতে STF, CID এবং অন্যান্য সব অর্গানাইজেশন থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, প্রত্যদর্শীদের কাছ থেকে প্রাথমিক যে ব্রিফ পেয়েছি তারাও উইটনেস হিসেবে সাক্ষী দেবে।
একইসাথে এদিন মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ সহ সরকারি চাকরির ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, যারা মারা গেছেন প্রত্যেকটি পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়াও একটি করে সরকারি, Group D চাকরি দেওয়া হবে। আর যারা আহত হয়েছেন তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয়ভার রাজ্য সরকার বহন করবে। যে হসপিটালে তারা ভর্তি হতে চান সেখানেই আমরা চিকিৎসা করাব। এছাড়া প্রত্যেকটি আহত ব্যক্তিকে আমরা ৫ লক্ষ করে টাকা, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করাব।
তবে শেষে তিনি বলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা। কিন্তু এক্ষেত্রে কর্তব্য অবহেলার কিছু অংশ থেকে থাকতেই পারে। প্রাথমিকভাবে আমরা দেখেছি। আরও একটু সিরিয়াস হলে এটা এড়ানো যেত। বৃষ্টিও একটা কারণ এবং প্যান্ডেলের ভিতরে আলো কম থাকাও আরেকটি কারণ। আমি অন্যান্য পূজা কমিটিকে বলব, থিমের থেকে বেশি মানুষের জীবন। দয়া করে যে ত্রুটিগুলো চোরবাগান সার্বজনীন থেকে দেখলেন, এটা দেখে ফায়ার ব্রিগেড এবং পুলিশের পরামর্শ নয়, বরং নির্দেশ মতো কাজ করুন। এইটুকু আমি বলব, দয়া করে এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করবেন না।














