বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে গিয়ে চোরবাগানের মণ্ডপে ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা (Chorbagan Stampede)। বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে ঢোকা এবং বেরোনো নিয়ে ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকে। সেই সময় হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় এক মহিলার। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, নিজের মায়ের মৃত্যু চোখের সামনে দেখেছেন তাঁর ছেলে। ২৫ বছরের সোনু পাল এখনও সেই ঘটনার কথা ভেবে আতঙ্কিত। তাঁর দাবি, সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনিও।
Chorbagan Stampede : বৃষ্টির মধ্যে ভিড়ের চাপ, চোখের সামনেই মাকে হারালেন সোনু
সোনু পাল কুমোরটুলির বাসিন্দা। সপ্তমীর সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে চোরবাগানের মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। সোনুর কথায়, সেই সময় বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল। তাই মণ্ডপের ভিতরে থাকা অনেকেই বেরোতে চাইছিলেন না। অন্যদিকে, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।
সোনুর দাবি, এভাবেই ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকে। এক সময় পরিস্থিতি সামলানো যায়নি। মণ্ডপের ভিতরে লোকজন একে অপরের গায়ে পড়ে যান। সেই ভিড়ের মধ্যেই চাপা পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর মায়ের। সোনু আরও জানিয়েছেন, তিনিও ভিড়ের চাপে পড়ে গিয়েছিলেন। কোনওরকমে নিজেকে সামলে মায়ের কাছে পৌঁছে দেখেন, মা আর বেঁচে নেই। সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমিও হয়তো বাঁচতাম না।”
ঘটনার (Chorbagan Stampede) পর মণ্ডপের ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, মণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর বিষয়ে ঠিকমতো ঘোষণা করা হয়নি। ভিড় সামলানোর জন্যও প্রয়োজনীয় ঘোষণা ছিল না। এর ফলে দর্শনার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মণ্ডপে পর্যাপ্ত পুলিশকর্মীও ছিলেন না। তাঁদের দাবি, শুধু ভিআইপি গেটের কাছেই পুলিশ ছিল। দুর্ঘটনার (Chorbagan Stampede) পর আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশাসনের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
হাসপাতালে ১৯ জনের মৃত্যুর খবর জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
ঘটনার (Chorbagan Stampede) পর হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও হাসপাতালে পৌঁছন। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতদের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা চলছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ‘কাউকে ছাড়ার প্রশ্ন নেই’, দেখুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ১ জন শিশু এবং ১৩ জন মহিলা রয়েছেন। এই ঘটনার (Chorbagan Stampede) পর সাহায্যের জন্য টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮।














