বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতের বৃহত্তম ব্যাঙ্ক হিসাবে বিবেচিত হয় স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তথা SBI। সমগ্র দেশজুড়ে এই ব্যাঙ্কের কোটি কোটি গ্রাহক রয়েছেন। এবার এই ব্যাঙ্কের ডেটা (SBI Data Leak) সংক্রান্ত একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। হ্যাকারদের (Dark Web) একটি গ্রুপ এই ব্যাঙ্কটির ডেটা লঙ্ঘন করার দাবি করেছে। এই ঘটনার পর SBI (State Bank of India) দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির মতে, SBI তার ইন্স্যুরেন্স সংস্থাকে এই সন্দেহজনক ডেটা লঙ্ঘনের বিষয়ে অবহিত করেছে। ব্যাঙ্কটি বর্তমানে ঘটনাটির ব্যাপ্তি মূল্যায়ন করছে। মূলত, ব্যাঙ্ক সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পূর্ণরূপে মূল্যায়ন করার পরেই ইন্স্যুরেন্স ক্লেম ফাইল করবে।
১,৪২৫ কোটির ইন্স্যুরেন্স ক্লেম করার প্রস্তুতি SBI (SBI Data Leak)-র:
ডার্ক ওয়েবে লক্ষ লক্ষ ডেটা ফাঁসের দাবি: জানিয়ে রাখি যে, এই পুরো বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে যখন একটি হ্যাকার গ্রুপ ডার্ক ওয়েবে ব্যাঙ্কের তথ্য ফাঁস করার দাবি করে। রিপোর্ট অনুসারে, ওই গ্রুপটি ২,৭২২ টি PDF নথির সঙ্গে প্রায় ৩,৭৫,০০০ ডেটা রোজ (Data Rows) ডার্ক ওয়েবে আপলোড করেছে। যেহেতু এই ঘটনাটি দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্কের সঙ্গে জড়িত, তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। SBI নিজেও ডার্ক ওয়েবের এই রেকর্ডগুলি খতিয়ে দেখেছে। এই তদন্তে ব্যাঙ্কটি ৩,৮৯৭ টি গ্রাহকের রেকর্ড খুঁজে পেয়েছে। যেগুলিতে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত শনাক্তকরণ তথ্য তথা PII ছিল।

গ্রাহকদের কোন তথ্য ফাঁস হয়েছে: উল্লেখ্য যে, ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হওয়া তথ্যে গ্রাহকদের অত্যন্ত ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে গ্রাহকদের নাম থেকে শুরু করে মোবাইল নম্বর, জন্ম তারিখ, ইমেল অ্যাড্রেস এবং এমনকি বাড়ির ঠিকানাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও আরও জানা গেছে যে, এতে ঋণের আবেদন সংক্রান্ত তথা লোন অ্যাপ্লিকেশনের বিবরণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এদিকে, তথ্য ফাঁসের ঘটনার পর, SBI তার সাইবার রেসিডেন্ট রেসপন্স প্রোসিজর সক্রিয় করেছে। ব্যাঙ্কটি বিষয়টি তদন্ত করার জন্য CERT-In-এর তালিকাভুক্ত একটি স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা নিয়োগ করেছে। বর্তমানে, তথ্য ফাঁসের সঠিক কারণ এবং ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে সংস্থাটি পুরো বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করছে।
আরও পড়ুন: ডেবিউ সিজনেই ৬১৩ রান! কে এল রাহুলের পরিবর্তে India A স্কোয়াডে ‘এন্ট্রি’ ২১ বছরের শিখর মোহনের
১,৪২৫ কোটি টাকার সাইবার ইন্স্যুরেন্স পলিসি: ইকোনমিক টাইমসের একটি রিপোর্ট অনুসারে, এই সন্দেহজনক তথ্য ফাঁসের ঘটনার পর SBI তার সাইবার ইন্স্যুরেন্স পলিসির অধীনে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে। ব্যাঙ্কটি রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্সের কাছ থেকে ১,৪২৫ কোটি টাকার একটি সাইবার ইন্স্যুরেন্স পলিসি রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, SBI ইন্স্যুরেন্স সংস্থাকে ক্লেমের বিষয়ে অবহিত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে, এই পুরো বিষয়টির প্রসঙ্গে SBI বা ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্সকে প্রশ্ন করা হলে কোনও পক্ষ থেকেই কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: নকশালদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে বিস্ফোরণে হারিয়েছেন পা! এশিয়ান প্যারা গেমসে সোনা জিতে নজির তোমানের
ইন্স্যুরেন্স ক্লেমের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ করা হবে: জানিয়ে রাখি যে, এই ইন্স্যুরেন্স পলিসির জন্য সর্বোচ্চ কভারেজের পরিমাণ হল ১,৪২৫ কোটি টাকা। ব্যাঙ্ক যে পরিমাণ অর্থ পাবে তা পলিসির শর্তাবলির ওপর নির্ভর করবে। এছাড়াও, ক্ষতিটি পলিসির আওতাভুক্ত কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য ঘটনার প্রকৃতি খতিয়ে দেখা হবে। একজন ইন্স্যুরেন্স ব্রোকারের মতে, একটি ভালো সাইবার ইন্স্যুরেন্স পলিসি ডেটা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের ফলে উদ্ভূত খরচ বা দায়ও কভার করতে পারে। এটি সম্পূর্ণরূপে পলিসির শর্তাবলি এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। তবে, সরকারি বা নিয়ন্ত্রক জরিমানার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ বা অব্যাহতির শর্ত প্রযোজ্য হয়।














